কক্সবাজারে ৩ পুকুরকে ঘিরে সংস্কার প্রকল্পের কাজ এগিয়ে

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৮

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পর্যটন শহরের ঐতিহ্যবাহী তিনটি পুকুর সংস্কার প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঐতিহ্য হারাতে বসা তিনটি দীঘি পুণ:খননের মাধ্যমে দুই পাড়ে হাঁটার পথ, পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন চাহিদা পূরণে ৩৬ কোটি ব্যয়ে প্রকল্প প্রণয়ন করছে কউক।

জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে “কক্সবাজার শহরস্থ ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজারঘাটা পুকুর পুনর্বাসনসহ ভৌত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন” প্রকল্প নামে পুকুর সংস্কারসহ সৌন্দর্য বর্ধনে গৃহীত এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্নেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ। পরিচালনায় রয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্নেল আনোয়ার উল ইসলাম।

কউক চেয়ারম্যান লেঃ কর্নেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ বলেন, সময়ের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে কউক এর সকল সেবা জনগণের কাছে পৌঁছাতে এবং কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরীর সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে সকল সরকা ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল, ভারত, ও মালদ্বীপ থেকেও অধিক বেশি বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে, সেই সাথে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের বিনোদন চাহিদা পূরণ ও স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে  পরিণত করতে নতুন নতুন সুষম উন্নয়ন এবং পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সর্বদা সজাগ এই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করতে, অযত্নে অবহেলায় পরিত্যক্ত লালদীঘি, গোলদীঘি ও বাজারঘাটা নাপিতাপুকুর গুলোকে অত্যাধুনিক পর্যটন স্পট  হিসাবে তৈরি করতে কউক এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

তিন পুকুরের কাজ সম্পন্ন হলে কক্সবাজারে আগত পর্যটন ছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্থানীয় জনগণের বিনোদন চাহিদা পূরণ, শহর ভিত্তিক স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন হাঁটা চলার জন্য স্বস্তির জায়গা তৈরি হবে। 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আর্কিটেক্ট আইনুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পে রয়েছে প্রতিটি পুকুরের চতুর্দিকে রিটেনিং ওয়ালের মাধ্যমে একটি ওয়াকওয়ে তৈরি করা, পুকুর সংলগ্ন স্থানে আপ্যায়নের জন্য থাকবে ক্যাফেটারিয়া, অবসর সময়ে ছাত্রছাত্রী সহ সর্বসাধারণের জন্য থাকবে লাইব্রেরি সুবিধা, থাকবে মুসল্লীদের জন্য নামাজের জায়গার ব্যবস্থা তথা প্রেয়ার স্পেস, শিশুদের বিনোদনের জন্য ওয়াটার শো, চোখ জুড়ানো লাইটিংয়ের ব্যবস্থা, অবজারভেশন ডেক এবং এমপি থিয়েটার সহ আরো নানা রকম বিনোদন ব্যবস্থা।

কউক এর চেয়ারম্যান বলেন, পর্যটন নগরীর এই তিনটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়েছিল এবং অবৈধভাবে দখলে চলে যাচ্ছিল। তাই আমরা এই পুকুরের জায়গার উপর শহরের মানুষের জন্য সুন্দর একটা বিনোদন ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে শহরের তিন স্পটে কউকের করা নান্দনিক সৌন্দর্য্যবর্ধন ও হিমছড়িতে সড়ক বাতি পর্যটকসহ স্থানীয়দের আকৃষ্ট করছে। সাথে যোগ হচ্ছে আরো তিনটি দীঘি পুণ:খনন প্রকল্প। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়ন হলে আকর্ষণীয় হবে কক্সবাজার শহর।

পিডিএসও/রি.মা