নিজ বন্দুকের গুলিতে ভিডিপি সদস্যের আত্মহত্যা

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৬

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

দারুণ অসহায়ত্ব ও গভীর অসহায়ত্ব নেমে এসেছে নিজ বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করা আনসার ভিডিপি সদস্য মকদুম হোসেনের পরিবারে। শিশুপুত্র মো. সাদিক হোসেন ও মেয়ে ইশরাত জাহান অনামিকার পিতা হারানোর করুণ আর্তনাদে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে যশোরের বসুন্দিয়া ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালীন নিজ রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন মকদুম হোসেন। দুপুরে তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের বিলআমুলা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের করুণ আর্তনাদের সঙ্গে প্রতিবেশীদের অশ্রুসিক্ত সমবেদনা।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত ঈদুল ফিতরের সময় মকদুম হোসেন ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু ঈদুল আজহার সময় তিনি ছুটি পাননি। গত বুধবার রাতে মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হয়। আবেগপ্রবণ মকদুম হোসেন ফজরের নামাজ শেষে কর্তব্য পালনকালীন অবস্থায় নিজ বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে মকদুমের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছলে স্ত্রী আমিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। বারবার চিৎকার করে প্রলাপ বকছিলেন আর মূর্ছা যাচ্ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে ছোট দুটি সন্তান নিয়ে নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছিলেন তিনি।

নিহত মকদুম হোসেনের শিশুপুত্র মো. সাদিক হোসেন নিকরাইল ফকির মকবুল চাইল্ড কেয়ার স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে বিশ্বাস করতে পারেনি। তাইতো বার বার দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। তার কান্নার রোল যেন থামছেই না। তাকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন প্রতিবেশী স্বজনরা।

নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে মেয়ে ইশরাত জাহান অনামিকা। পিতার মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সে। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, বাবার সামান্য আয়ে আমরা কষ্ট করে পড়ালেখা করতাম। এখন আমাদের কী হবে। কে আমাদের পড়ালেখা করাবে। তিন বেলা খাবার জোটাবে। পরিবারের এমন করুণ আর্তনাদে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। স্বজন, প্রতিবেশী, উৎসুক জনতার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।

পিডিএসও/তাজ