ফরিদপুর মেডিকেলে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু

গত ৪ দিনে ৩০৯ জন ভর্তি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৮ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:০৭

কে এম রুবেল, ফরিদপুর

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তানজিদ মোল্লা (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। শিশুটিকে গত রোববার ভর্তি করা হয়েছিলো।

তানজিদ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার বাসিন্দা ভ্যান চালক জাহিদ মোল্লার ছেলে। ৩ ভাইয়ের মধ্যে তানজিদ সবার বড়। তানজিদের ফুপু রিনা বেগম জানান, ৩ দিন জ্বরে ভোগার পর গত ১১ আগস্ট শিশুটিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচাালক কামদা প্রসাদ সাহা জানান, তানজিদ মধুখালীতে নিজ বাড়ি থেকেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ জন মারা গেল।

এর আগে গত ৯ আগস্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান গৃহবধূ লিপি আক্তার (২৫)। গত পহেলা আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেপাখোলা এলাকার শারমীন (২২) এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

এদিকে গত ১১ আগস্ট থেকে বুধবার পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩০৯জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন গত ১১ আগস্ট ১০৮জন। ১২ আগস্ট নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭৬ জন, ১৩ আগস্ট ৪১ জন এবং বুধবার ভর্তি হয়েছেন ৮৪জন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২০ জুলাই থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৭১জন। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন ২৪৬জন, ১০জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩১২জন। 

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১৫৬জন ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন এনামুল হক জানান, গত ২০ জুলাই থেকে বুধবার পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ভর্তি হয়েছে ৮৯৭জন। আজ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৭৩জন। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন ৪২০জন। ১০১ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ