কুতুবদিয়ায় অমাবস্যার জোয়ারে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪৬

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

কক্সবাজারের দ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলার অমজাখালীসহ আশপাশের ৩০টি গ্রাম অমাবস্যা জোয়ারের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানের বেড়িবাঁধ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার কোরবানির ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এই এলাকার মাত্র ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে দক্ষিণ মুরালিয়া, আজমকলনী, দক্ষিণ অমজাখালী,পূর্ব মুরালিয়া,কালাইয়া পাড়া, রোমাই পাড়া, কুমিড়া ছড়া, কালুয়ার ডেইল,ঘোনার মোড়, ঝাইতলা পাড়াসহ আরো কয়েকটি এলাকার মানুষ এখন অনেকটা পানিবন্দি।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো গত ৪ দিন ধরে দিনে ও রাতে দু‘বার জোয়ারের পানিতে নিঃস্ব হলেও ত্রান বা কোনো সহায়তা এখনো কেউ পায়নি।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেন, ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় ত্রাণ আসলেও তারা সঠিকভাবে পায়নি। বিতরণ না করে বাইরে বিক্রির অভিযোগের তীর স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে।

দক্ষিণ অমজাখালী ৪নং ওয়ার্ডে একাধিক পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নেই। অমাবস্যার স্বাভাবিক জোয়ারের পানি মুহূর্তেই লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আরো ২ দিন জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন্ এলাকাবাসীরা।

আলী আকবর ডেইল(২,৩,৪,৫,৬,৭) নং ওয়ার্ড এবং ১নং ওয়াডের আংশিক অংশ যথাক্রমে, তাবালের চর, আনিছের ডেইল,ঘাটকুল পাড়া,বায়ুবিদ্যূৎ, হায়দার পাড়া,পন্ডিতপাড়া,কাহারপাড়া,কাজীর পাড়া,সাইটপাড়া, জেলে পাড়া,কিদার পাড়া,সন্ধোপী পাড়া ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে শত শত কাঁচা ঘর-বাড়ি, শত শত হেক্টর ফসলি জমি এবং মৎস্য ঘের তলিয়ে গিয়ে ইতোপূর্বে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে আলী আকবর ডেইল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুচ ছাফা বিকম জানান, বিশেষ করে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই তিন এলাকা আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ, উওর ধুরুং। আগে থেকে খোলা ছিল আলী আকবর ডেইলের বেড়িবাঁধ। যেখানে ঠিকাদার পালিয়ে গেছে সেখানে আমরা কী করতে পারি। এখন আমরাও অসহায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আমরা যতটুকু পারছি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি। যারা ত্রাণ বিক্রি করে ফেলার অভিযোগ করছেন, তাদের অনুরোধ করবো গুজব সৃষ্টি করবেন না।

এছাড়াও উত্তর ধুরুং কাইছার পাড়া, নয়াপাড়া,আকবরবলী ঘাট, ফয়জানি পাড়া, কালারমারপাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর,ঘিলাছড়ি,সিকদার পাড়া,মফজল পাড়া,সাইট পাড়া,লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাঁটা এবং ৯নং ওয়াড়ের্র বেশকিছু এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে।

বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.না.ম. শহীদ উদ্দিন ছোটন বলেন, দক্ষিণ অমজাখালীসহ যেসব এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে আমি সেইসব এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। তাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করছি।

এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে ফোন দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান শাহারিয়া বলেন, বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ ফেলে যেখানে ঠিকাদার পালিয়ে যায়। সেখানে এলাকাবাসী কতটুকু অরক্ষিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, কুতুবদিয়া জোয়ারের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে চারদিকে। কমপক্ষে ৫০০ পরিবার হুমকিতে আছে। এখন বেড়িবাঁধ মেরামত কাজ অজ্ঞাতকারণে বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টিটু জানান, নিজস্ব তহবিল থেকে আপাতত বস্তা ব্যবস্থা ও কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, আলীআকবর ডেইলের ইউপি চেয়ারম্যান নূরুচ ছাফা বি.কম, নবনির্বাচিত বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.না.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন, এবং বড়ঘোপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে একটি বেড়িবাঁধ করে দেওয়ার কাজ হাতে নিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে সেটির কাজ শুরু হবে।

দক্ষিণ অমজাখালী ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাছির উদ্দীন বলেন, অমাবস্যার জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণ অমজাখালী বেড়িবাঁধের ৩ পয়েন্টে দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। বড়ঘোপ এলাকার দক্ষিণ অমজাখালীর অসহায় হালিমা, পরভিন, গিয়াস উদ্দিন, হাসিনা, বলেন, যদি কয়েকদিনের মধ্যে বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হয়, আমাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তুু হতে হবে।

এলাকাবাসীরা বলছেন, যদি বর্ষার আগে বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হয়, তাহলে আমাদের বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে যাবে।

পিডিএসও/তাজ