বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১০:২১

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে, নদ নদীর পানি বাড়ছে, বিশেষত তিস্তার পানি বৃদ্ধি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। নতুন এলাকায় বন্যার বিস্তৃতি ঘটছে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা, খোলা আকাশের নিচে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে। খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা চলছে তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট : 

গঙ্গাচড়া (রংপুর) : গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি গতকাল শনিবার বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খুলে দেওয়া হয়েছে ডালিয়া ব্রিজের সব জলকপাট। বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আবাদি ফসল তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে খামারের মাছ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ছোট ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধজনদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত শুক্রবার পানিবন্দি ৮৫০ জনের মাঝে চিড়া, মুড়ি, গুড়, দেয়াশলাই, মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য গঠন করা হয়েছে মেডিকেল ডিম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলীমা বেগম জানান, পানিবন্দি পরিবারের জন্য ২০ টন চাল, আলু, ডাল, তেল, লবণ, স্যালাইন ও বিশুদ্ধ ট্যাবলেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধাহাট থেকে বড়খাতা বিডিআর গেট বাইপাস সড়ক ভেঙে তিস্তা নদীর পানি হাতীবান্ধা শহরসহ লোকালয়ে প্রবেশ করছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই উপজেলার গড্ডিমারী মেডিকেল মোড়ের উত্তর পাশে সড়কটি ভেঙে যায়। ফলে তিস্তা নদীর পানি সতি নদী হয়ে হাতীবান্ধা শহরসহ লোকালয়ে প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার ভোরে স্থানীয়রা বালুর বস্তা ফেলে হাতীবান্ধাহাট থেকে বড়খাতা বিডিআর গেট বাইপাস সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছে। পানি বন্দিদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে ধরলার পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলায় তিস্তা ও ধরলা নদী এক সঙ্গে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর পানি আটকাতে ৫ হাজার খালি বস্তা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু তার আগে থেকেই খালি বস্তার জন্য জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিয়ে অনেক ছোটাছুটি করেও স্থানীয়দের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। সময়মতো খালি বস্তা বরাদ্দ পেলে সামাল দেওয়া যেত। এ নিয়ে ওই এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বন্যার হুমকিতে থাকা লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ ও চর এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরো কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারণা করা যাচ্ছে না।

পানির শো শো শব্দে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিস্তা নদীর ভয়ঙ্কর রূপ আর গর্জনে পানিবন্দি লোকজনের চোখে ঘুম নেই।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ও ধুনটে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার চর এলাকার কামারপুর, রহদহ, ঘুঘুদহ, চন্দনবাইশা, ধলিরকান্দি ও কুতুবপুরের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। পাউবোর নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ জানান, যমুনা নদী সারিয়াকান্দির গোদখালী ও ধুনটের কয়াগাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হলেও বাঁধ ভাঙনের কোনো আশঙ্কা নেই।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ব্রহ্মপুত্র বিপৎসীমার ৩৭ সেমি., তিস্তা ৯ সেমি ও ঘাঘট নদীর পানি ১১ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া যমুনা ও করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা এবং সদর উপজেলায় নদী তীরবর্তী ও বিভিন্ন চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া, কাবিলপুর, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী, গলনা, ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ী, ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, উজালডাঙ্গা, বাজে তেলকুপি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের হরিচন্ডি, জিগাবাড়ী, সন্যাসীর চর এবং সুন্দরগঞ্জের হরিপুর, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে গত এক সপ্তাহে ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জের ওইসব এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম- নাজিরহাট মহাসড়কের পৌরসভার মুন্সির মসজিদ এলাকার সিকি কিলোমিটার, ধলই ইউনিয়নের এনায়েতপুর এলাকার আধা কিলোমিটার মহাসড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলের সঙ্গে উপজেলার সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট বাজারের দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। দেড় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌরসভার মুন্দারী ছড়ার বাঁধ ভেঙে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, হালদা নদীর ঢলের পানি এবং এলাকায় নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সমান হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফরহাদাবাদ উদালিয়া ত্রিপুরা পল্লীতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সরিয়ে আনা পরিবারগুলোর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন দিনের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত ৪০০ পরিবারের জন্য শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ : বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের প্রায় ২০-২৫টি ঘর নদীতে ভেঙে গেছে। নদীতে ঘর হারিয়ে দিঘীরপাড় ইউনিয়নের মুহাম্মদপুর এসে অনেকে রাস্তার পার্শ্বে সরকারি জায়গায় ঘর বেঁধে কোনো রকমে দিন যাপন করছেন। অন্য দিকে নিকলী উপজেলার শিংপুর ইউনিয়নের শিংপুর উত্তর ও পূর্বপাড়ায় জেলে পল্লীর অনেক জায়গা ধনু নদীতে ভেঙে গেছে।

রাউজান : বন্যায় রাউজানের মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সড়কের রাউজান অংশ হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতে রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি এসে এই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, রাউজানের পূর্বাংশজুড়ে রয়েছে পার্বত্য জেলার অসংখ্য পাহাড়। এসব পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে উপজেলার উত্তরাংশের ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙে গেছে। এলাকার লোকজন বলেছেন সর্তার বেড়িবাঁধ এখন অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এই খালের বাঁধ ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দেখা গেছে, রাঙামাটি সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটু থেকে কোমর পানি গড়াচ্ছে।

রংপুর : উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ক্রমেই উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে চলেছে। একই সঙ্গে বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫৩.১১ সেন্টিমিটার ও দোওয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও ছোট বড় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাট বাইপাসে পানি ছুঁই ছুঁই করছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে যেকোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাস কেটে দেওয়া হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৬ সেমি. ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ছে দুধকুমার নদীর। কুড়িগ্রামের নদ-নদী অববাহিকার চর-দ্বীপচরগুলোতে নৌ ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ১১টি থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন রংপুরের কুকরুল, কাউনিয়া, পীরগাছা, গংগাচড়া উপজেলার প্রায় ১ লক্ষাধিক মানুষ। গাইবান্ধা, সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা, উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : কলমাকান্দার ৮টি ইউনিয়ন এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলায় প্রবাহিত উব্দাখালী, মহাদেও, গনেশ্বরী, বাকলা ও কংস নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সরকারিভাবে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, বন্যার্তরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে। শনিবার সংসদ সদস্য মানু মজুমদার দিনব্যাপী বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

বিয়ানীবাজার (সিলেট) : কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে নদীর উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন অংশ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। যেকোনো সময় বিয়ানীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বৈরাগীবাজার অংশ ও মেওয়া পয়েন্ট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দীগলবাক এলাকার কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে যাওয়ার খবর জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সকাল থেকে ভাঙা ডাইক দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় এরই মধ্যে এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিরণ জানান, গত শুক্রবার সকালে কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের বকশীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের সাধুর পাড়া ইউনিয়ন ও মেরুরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম, ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসান মাহবুব খান জানান, বন্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে ৭ উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় অংশের ঢলে আগামী দু-তিনদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের তালমা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যামের ব্যাগে পানি ঢুকে ফুলে গেছে ১২ ফুট। এতে করে রাবার ড্যামে পানি আটকে উজানে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ড্যামের উত্তর পার্শ্বের হিমালয় বিনোদন পার্কে কোমর সমান পানি জমে গিয়ে পার্কটি দর্শনার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে। সহসা পানি না সরলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করেছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ। নদী পাড়ে তেমন একটা বসতবাড়ি না থাকলেও নদীর দু’পাশে গড়ে ওঠা চা বাগানে পানি উঠেছে। সহসা পানি সরে না গেলে এসব চা বাগানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।

পীরগাছা (রংপুর) : রংপুরের পীরগাছার অংশে তিস্তা নদীর তীরবর্তী পানিবন্দি এবং ভাঙনকবলিত পরিবারের মাঝে গতকাল শনিবার শুকনা খাবার বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

ওই দিন সকালে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের চর গাবুড়া, কান্দিনার চর, জুয়ানের চর, জুয়ান গুচ্ছগ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের পানিবন্দি এবং ভাঙনে নিঃস্ব ৪৭৫ জন পরিবারের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওষুধ সামগ্রী ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

পিডিএসও/তাজ