দৌলতদিয়ায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন, দুর্ভোগ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ১১:২৬ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ১৫:১৮

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

দুর্ভোগ যেখানে পিছু ছাড়ে না তার নাম দৌলতদিয়া ঘাট। যে ঘাট শুধু নেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। আর যা দেয় তাহলো সীমাহীন দুর্ভোগ। এমন দুর্ভোগ মেনেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ চালাচল করে একপ্রকার বাধ্য হয়েই। অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ নৌরুটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন।

পদ্মা নদী পারের জন্য যাত্রীবাহী বাসগুলোকে সারা রাতই অপেক্ষা করতে হয়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে। আর গত দুদিন ধরে অপেক্ষা করছে পণ্যবাহী ট্রাক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) বলছে, নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফেরিগুলোর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। ফলে ঘাটে একটু বাড়তি যানবাহনের চাপ রয়েছে। প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আজই ঘাট স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার মহাসড়কে সহস্রাধিক যানবাহন নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে। পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি যোগ হয়েছে যাত্রীবাহী বাস। ফলে বাসের যাত্রী ও চালকরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সারা রাত জেগে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

মহাসড়কে ছাড়াও দৌলতদিয়া টার্মিনালে নদী পারের জন্য দুদিন ধরে সেখানে অপেক্ষা করছে প্রায় দেড় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক।

বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঘাটে যাত্রীবাহী কোনো বাসের যানজট না থাকলেও রাত থেকে বাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদেরকেও ট্রাকের পাশাপাশি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরির জন্য।

টার্মিনালে থাকা ট্রাকচালক রিপন আলী শেখ জানান, দুদিন ধরে ফেরির জন্য ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছি। একদিন কেটেছে সড়কে আরেকদিন কাটলো টার্মিনালে। মনে হচ্ছে আজও ফেরিতে উঠতে পারবো না।

দৌলতদিয়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর আবুল হোসেন জানান, ঘাট এলাকায় এখন যে যানবাহনগুলো নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে সেগুলো যাতে সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পার হতে পারে সেজন্য কাজ করছি। আশা করছি সবাই একটু ধৈর্য ধরলে সুন্দরমতো নদী পার হতে পারবে।

পিডিএসও/হেলাল