টানা ভারী বর্ষণে চকরিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৪ | আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৮:১১

চকরিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বেশির ভাগ নীচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নানাভাবে অন্তত লক্ষাধিক জনসাধারণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বেশিরভাগ নিমাঞ্চল তলিয়ে গেছে পানিতে। বর্ষণ অব্যাহত থাকার কারণে পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহ বেড়েছে মাতামুহুরী নদীতে।

এ অবস্থার কারণে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে নদীর পানি বিপদসীমা ২৬ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ২৬ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা (এসও) এসএম তারেক বিন সগীর। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামার কারণে পৌরসভার একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ২০ হাজার জনসাধারণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের ফলে তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ নীচু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলার চিংড়িজোনের হাজার হাজার মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে ঘের মালিক ও চাষীদের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ভারী বর্ষনের কারণে উপজেলার বেশিরভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ও স্লুইচ গেইট সমুহ পরির্দর্শন করা হয়েছে। যেসব এলাকা বন্যাঝুঁকিতে আছে, তার কারণ উৎঘাটন পুর্বক জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্থুতি রয়েছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বানবাসিদের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে ইনশাআল্লাহ্  এখনো পর্যন্ত বন্যার কবলে বড় কোনও দূর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটেনি।

পিডিএসও/রি.মা