মেয়াদোত্তীর্ণ তিস্তা রেল সেতু দিয়েই চলছে ট্রেন

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৯

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

১৮৩৪ সালে সারাদেশের সঙ্গে রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে তিস্তা নদীর উপর ২ হাজার ১১০ ফুট লম্বা রেলসেতু নির্মাণ করে তৎকালীন বৃটিশ সরকার। মেয়াদোত্তীর্ণ ১৮৫ বছর বয়সী লালমনিরহাটের তিস্তা রেলসেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেনসহ ১৮টি ট্রেন। দির্ঘদিন থেকে পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও নেই বাস্তবায়নের কোনো সরকারি উদ্যোগ।

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের অফিস সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, তিস্তা নদীর উপর ২ হাজার ১১০ ফুট লম্বা এ তিস্তা রেলসেতু নির্মাণ করে তৎকালীন বৃটিশ সরকার। তখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেলসেতু হিসেবে এটির পরিচিতি ছিল। সেতুটির উত্তর পাশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা এলাকার গোকুন্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ পাশ যুক্ত হয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সঙ্গে। ১৮৫ বছর বয়সের এ সেতুটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল একশত বছর। ৮৫ বছর আগে সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও জোড়াতালি দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ছুটছে এই সেতুর উপর দিয়েই।

২০০১ সালে রেলসেতুর পূর্ব পাশে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে বতর্মান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন। আর সড়ক সেতু চালু হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতুর যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। সেতুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে এ সেতুর উপর দিয়ে। অযত্ন-অবহেলায় সেতুটির লাইনে বেশ কিছু স্লিপার নষ্ট হয়েছে। খুলে পড়ে গেছে অনেক স্লিপারের প্লেট ও নাট-বল্টু। ফলে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার আগেই সেতুটির কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যাত্রীসাধারণ ও স্থানীয়রা।

তিস্তা রেল সেতু এলাকার বাসিন্দা মুকুল মিয়া, রিপন মিয়া, মিনার মাস্টার মোজাম্মেল হক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তিস্তা রেল সেতুটির ওপর ট্রেন উঠলেই সেতুটি কেঁপে ওঠে। ট্রেনটি সেতুর মাঝপথে গেলেই সেতুটি টলতে থাকে। সব সময় আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কখন যে কি দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝে মাঝে লোক দেখানো নামমাত্র সেতুর মেরামতের কাজ হলেও কোনো উন্নতি ঘটেনি। ফলে যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের প্রাণহানিসহ মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কয়েক মাস আগে তিস্তা রেলসেতু পরিদর্শন করে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, কানেক্টিভিটি বাড়াতে তিস্তা রেলসেতুতে ট্রেনের গতি ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তাই তিস্তায় আরেকটি রেল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরাতন সেতুর পশ্চিম পাশেই আরেকটি ডুয়েল গেজ সেতু নির্মাণে খুব দ্রুত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গত ২৫ জুন একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিভাগের ছোট-বড় ৪০৮টি সেতুর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু সেতুতে ইতোপূর্বে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সেতু নেই। তিস্তা রেল সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবু বর্তমান সরকারের তিস্তা রেলসেতুর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরো একটি মিটার ও ব্রডগেজ ডুয়েল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল