নোয়াখালীর রেকর্ড রুমের ৪ লাখ নথি বিনষ্ট

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:১৭

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী জেলা রেকর্ড রুমের ২ লাখ বালাম (জনসাধারণের নামের তালিকা), ১ লাখ ইনডেক্স ও ১ লাখ দলিলসহ চার লাখ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র বিনষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় মাইজদী শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে রেকর্ড রুমের হাজার হাজার কাগজপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় কয়েকজন কর্মচারী র‌্যাকে থাকা শুকনো রেকর্ডপত্রও পানিতে ফেলে দিয়ে বিনষ্ট করেছেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। নোয়াখালী রেকর্ড রুমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী জানান, নোয়াখালী রেকর্ড রুমে গত কয়েকদিনে অন্তত ২ লাখ বালাম, ১ লাখ ইনডেক্স, ১ লাখ দলিলসহ মূল্যবান কাগজপত্র বিনষ্ট হয়ে গেছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু ইউছুফ জানান, রেকর্ড রুমের কাগজপত্র, বালাম ও সরকারি রেকর্ডপত্র বিনষ্ট হয়েছে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে রেকর্ড রুমে পাঠান। ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা পেয়ে জেলা প্রশাসক জেলা রেজিস্টারকে ডেকে নিয়ে এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বললেও জেলা রেজিস্টার আশ্রাফুল ইসলাম রেকর্ড রুম পরিদর্শনে যাননি।

রেকর্ড রুমের রেকর্ড কিপার নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি নবাগত তাই বিনষ্ট রেকর্ডপত্রের পরিমাণ তথ্য তার জানা নেই। সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের হেডক্লার্ক সিরাজুদ্দৌলাকে একাধিকবার স্থানীয়রা জেলা রেজিস্ট্রারকে বর্ষা মৌসুম উপলক্ষে জরুরি কাগজপত্র অন্যত্র সরাতে গুদাম ভাড়া নেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও কেউ কর্ণপাত করেনি।

দলিল লেখক সমিতি সভাপতি সাইফ উদ্দিন বাবুল জানান, পানি ওঠার কারণে বালাম ও কপিগুলো ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয়ের বাইরে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার অ্যাসোসিয়েশন সদর শাখার সেক্রেটারি কাজী জানিয়াত হোসেন মেহেল জানান, পুরাতন বালাম ইনডেক্স গত বছর ও বর্তমান বছরের দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টেবিল, চেয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। বেহাল দশায় কয়েকশ কর্মচারী কাজ করতে পারছেন না। 

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ও আওয়ামী আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান জানান, রেকর্ডপত্র নষ্ট হলে এক শ্রেণির জালিয়াত চক্র অফিসের যোগসাজশে জাল দলিল ও রেকর্ডপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে ফেলবে। যার ফলে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং মামলা মোকদ্দমা বৃদ্ধি পাবে।

পিডিএসও/হেলাল