টানা বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগরী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৬ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ২০:১২

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় টানা ভারি বর্ষণ ও থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা হাঁটু কোমর পানিতে ভরে গেছে।

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাঁটু কোমর পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।

এছাড়া, প্রায় প্রতিটি অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাসা-দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, কাঁচাবাজারেও। সব মিলিয়ে রোববার রাত আর সোমবার ভোরের ৫-৬ ঘন্টার টানা ভারী বর্ষণ ও গত দুদিনের  বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ নগরবাসী চরম দুর্ভোগের মুখে।

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার, অক্সিজেন, মুরাদপুর, ষোলশহর  ২নং গেট, ওয়াসা মোড়, হামজারবাগ, মোহাম্মদপুর, শুলকবহর, হালিশহর, আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ সংলগ্ন এলাকা, শিশু হাসপাতালের একাংশ, হালিশহর কে ব্লক, প্রবর্তক মোড়, কাপাসগোলা, চকবাজারসহ নগরের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব এলাকায় জমেছে কোমর সমান পানি। 

নগরীর বহদ্দারহাট ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের উপর সারি সারি গাড়ি আটকা পড়ে। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের বহদ্দারহাট অংশ ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি স্থানে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় উভয় ফ্লাইওভারের দুদিক থেকে আসা সকল যানবাহন বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দীর্ঘসময় আটকা পড়ে আছে। নগরীর ঘাটফরহাদ বেগ এলাকায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সীমানা দেওয়াল ভেঙে পাহাড়ি মাটি ও পানি এসে পড়েছে সড়কে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ডিউটি এ্যাসিস্ট্যান্ট মাহমুদুল আলম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৮৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছেন ।এ অবস্থা আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকার ফার্নিচার ব্যবাসায়ী মো: আইয়ুব তার দোকানে পানি প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে বলেন, গত এক যুগেও কখনো আমার দোকানে পানি প্রবেশ করেনি অথচ এবার  কোমর পানিতে নিমজ্জিত।

বহদ্দারহাট এলাকার তিতাস কলোনীর স্কুল ছাত্র মো: মুজাহিদ জানায়, আমি তো ঘরে হাঁটুপানি দরজার বাইরে কোমর পানি ডিঙ্গিয়ে বের হতে পারছিনা- স্কুলে যাবে কি করে?

নগরীর বাস সার্ভিসসহ অন্যান্য পাবলিক যানবাহন পানির কারণে বিভিন্ন সড়কে আটকা থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যস্থলে পৌঁছেন।

এছাড়া, টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিভিন্ন পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় থেকে এ পর্যন্ত ৩৬১টি পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রসমূহে নেয়া হয়েছে। আরো যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, তাদের সরানোর কাজ চলছে।

পিডিএসও/তাজ