নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে চিংড়ি রেণু আহরণ (ভিডিও)

প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৯, ১৬:৩৩

গিয়াস উদ্দিন রনি, নোয়াখালী

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ছোট ফেনী নদীর চরএলাহী ইউনিয়ন ও চরফকিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে চলছে কোটি টাকার গলদা-বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির রেণু আহরণ। 

প্রতিদিন এ রেণু আহরণ করতে গিয়ে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক হাজার প্রজাতির মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী। প্রতি বছর নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা সংগ্রহ করতে থাকে এ অঞ্চলের নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায়, কোনও রাকঢাক ছাড়াই প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রজাতির রেণু আহরণ চলছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাগদা ও চিংড়ি পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়। এ সুযোগেই মৎস্য অফিসের উদাসীনতা, স্থানীয় কোস্টগার্ডের অক্ষমতায় শতভাগ নির্বিঘ্নে এরা পোণা আহরণ করছে। মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করার জন্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো এ ঘটনা তারা যেন দেখেও দেখছেনা। 

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফয়সল আহমদ বলেন, মাছের পোনা আহরণ বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, এ ছাড়াও চরএলাহী ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান’র নাম ভাঙিয়ে ট্রাক প্রতি ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে মহাজনদের গলদা-বাগদা চিংড়ির দৈনিক প্রায় ১২টি ট্রাক চরএলাহী ও চরফকিরা থেকে পারাপার হচ্ছে তাদের গন্তব্যে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আসাদুজ্জামান’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, চর এলাহী ইউনিয়নের স্থানীয় মনা (মান্নান) নামে এই ব্যক্তি আমার নাম ভাঙিয়ে অবৈধ পোনা ব্যবসা করছে বলে শুনেছি এবং অভিযোগ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, একটা বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে জেলেরা নষ্ট করে অন্তত ৪৬ প্রজাতির পোনা, ৩৫টি জুওপাস্কটন প্রজাতির ও ১১টি সাদা মাছ প্রজাতির পোনা।  এই বাগদা পোনা নিধনের ফলে মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র নামে পরিচিত নোয়াখালীর উপকূলীয় জাতীয় মৎস্য সম্পদ ও এর জীববৈচিত্র হুমকির মধ্যে পড়েছে। সর্বোপরি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এতে ওই সব মাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য জনসচেতনতার পাশাপাশি কৃত্রিম উপায়ে (হ্যাচারি পদ্ধতি) চিংড়ির রেণু উৎপাদনে উৎসাহিত করা দরকার।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোতালেব হোসেন বলেন, পোনা মাছ আহরণ বন্ধে উপজেলা পর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। পোনা মাছ আহরণ বন্ধে মৎস্য বিভাগ যথেষ্ট আন্তরিক। 

অপর দিকে এ বিষয়ে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আফরিন সুলতানা বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এ উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পোনা মাছ আহরণ বন্ধ করা উপজেলা মৎস বিভাগের জন্য অনেক দুরুহ ব্যাপার। তিনি আরো বলেন, আগের বছর পোনা মাছ আহরণ বন্ধে উপজেলা মৎস অফিস স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় অভিযান পরিচালনা করে।

ভিডিওতে দেখতে ক্লিক করুন

পিডিএসও/রি.মা