চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে!

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ১২:৩৮ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৩:৪৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশের মধ্যে প্রথম বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ। তবে এ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্ক বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার ভাড়াশিমলা সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন। বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া জন্ম সনদ অনুযায়ী তার জন্ম ২০০৭ সালের ১৩ আগস্ট।

ফারজানা সোনাটিকারী গ্রামের হাফেজ আশরাফুল ইসলাম ও আমেনা খাতুনের মেয়ে। ১০ জুন তার বয়স হয়েছে ১১ বছর ১০ মাস চার দিন। ওই দিনই ফারজানাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে একই গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনারুল ইসলামের (৩৫) সঙ্গে।

ওই স্কুলছাত্রীর বাবা চৌবাড়িয়া গাজী পাড়ার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আশরাফুল ইসলাম বলেন, মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। সব তার মা করেছে। 

ফারজানার চাচা শওকত হোসেন ও আমির আলী জানান, মেয়ের মা আমেনাসহ কয়েক জনের সহায়তায় ১০ জুন সোমবার রাত ৮টায় তাকে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী নলতার মাঘুরালী এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দেয় ফারজানার। পরে দেবহাটা উপজেলার নাংলা গ্রামে নুর ইসলাম হুজুরের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। পরে মেয়ের বাবা আশরাফুল ইসলাম জানতে পেরে ১৩ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুনের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে রেখে দেন।

তিনি আরো বলেন, মেয়েকে ফিরে পেতে জটিলতা নিরসনে ভাড়াসিমলা ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ বিশ্বাস, সদস্য মনোয়ারা খাতুন ও সদস্য পিয়ার আলীর কাছে আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। ফারজানা পড়াশুনা করতে চায়।

এ ব্যাপারে ছেলের বাবা সোনাটিকারী গ্রামের বাবর আলী বলেন, ছেলে আনারুল বিয়ে করেছে শুনেছি। তবে তাকে জানানো হয়নি। বউমাকে বাড়িতে আনা হয়নি।

সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদানন্দ মণ্ডল জানান, ফারজানার বয়স জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ১২ বছরের নিচে। ঈদের পর স্কুল খুললে ফারজানা না আসায় খোঁজ নিয়ে জেনেছেন বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ে কি সেটিও বোঝার বয়স এখনো তার হয়নি। দেশের মধ্যে প্রথম বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা কালিগজ্ঞ। আর সেখানেই ঘটলো বাল্যবিবাহ।

এ বিষয়ে ভাড়াশিমলা ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি শোনার পর সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে মীমাংসা করে দিতে বলা হয়েছে। মেয়েটি বর্তমানে তার চাচা শওকত আলীর বাড়িতে রয়েছে।
জোরপূর্বক স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে মেয়েটির মা আমেনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

ঘটনার বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আজিজুর রহমান বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে দিয়েছে ঘটনাটি কেউ থানায় জানায়নি। কোনো অভিযোগও পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পিডিএসও/হেলাল