লাশের ময়নাতদন্ত হয় ছাদে

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য স্থায়ী কোনো মর্গ নেই

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ১৫:৪৫

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য স্থায়ী কোনো মর্গ না থাকায় হাসপাতাল ভবনের ছাদে ত্রিপল দিয়ে ঘিরে কয়েক বছর ধরে চলছে লাশের কাটাছেঁড়া। জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে লাশ রাখার ব্যবস্থাও নেই। এ অবস্থায় হাসপাতালের ছাদেই চলছে লাশের কাটাছেঁড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, ময়নাতদন্তের জন্য আনা লাশ ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডের পাশে রাখা হয়। এতে করে অপঘাতে নিহত লাশের দুর্গন্ধে প্রায়ই হাসপাতাল ও আশপাশ এলাকার পরিবেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

জানা যায়, হাসপাতালের গোড়াপত্তনের পর থেকে জেলা কারাগার সড়কের পাশের একটি কাঁচা ঘরকে মর্গ হিসেবে ব্যাবহার করা হতো। সে মর্গটি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেটি এখন আর ব্যবহার করে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় হাসপাতালের ছাদের উপর ত্রিপল দিয়ে ঘিরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে করা হচ্ছে লাশের ময়নাতদন্ত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এখানে ২১৭টি লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য প্রতি মাসে গড়ে ২০-২৫টি লাশ আসে। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো ডোম নেই। নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের দুইজন ডোম এসে লাশ কাটার কাজ করেন এখানে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম এ অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে জানান, পুরনো লাশ কাটা ঘরটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় অস্থায়ীভাবে ছাদের ওপরে লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান জানান, ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জেনারেল হাসপাতালের লাশ কাটা ঘরের র্নিমাণকাজ চলছে, আশা করছি আগামী এক দেড় মাসের মধ্যে র্নিমাণকাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

পিডিএসও/রি.মা