পাহাড়তলীতে রেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০১:০২

চট্টগ্রাম ব্যুরো

১০ থেকে ১৫ বছর আগে স্ক্র্যাপ হয়ে যাওয়া রেলের বগি মেরামত করে আবারও চলাচলের উপযোগী করে তুলছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপ। গত ছয় মাসে এ ধরনের অন্তত ১৭টি বগি পরিপূর্ণ মেরামত শেষে রেলের বহরে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন করে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে নষ্ট হয়ে যাওয়া আরো ২২টি বগি। এতে সাশ্রয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকার বেশি। স্বাধীনতার আগে থেকে রেল চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সুনাম ছিল ইরানি তৈরি বগির। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারের পাশাপাশি নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে ১০ থেকে ১৫ বছর আগেই এ ধরনের অন্তত ৩৯টি বগি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইয়ার্ডেই পড়ে থাকায় অনেকটা স্ক্র্যাপ হয়ে গিয়েছিল এসব বগি। তবে মারাত্মক বগি সংকটের মুখে অচল এসব বগিকে সচল করার প্রক্রিয়া শুরু করে পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপ।

রেলওয়ে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেরামতের শতভাগ কাজই আমরা করছি। এই বগি পরবর্তী সময়ে ‘সোনার বাংলা’, ‘তূর্ণা’ ও ‘গোধূলী’-এর মতো ট্রেনে যুক্ত করা হবে। এরই মধ্যে ১১টি বগি মেরামত শেষে বিভিন্ন লোকাল ট্রেনে সংযোজন করা হয়েছে। আরো চারটি বগি একেবারে নতুনের মতো করে মেরামত শেষে সংযোজন করা হয়েছে অভিজাত ট্রেন সোনার বাংলা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসে। পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের শিফট ইনচার্জ শংকর সাহা বলেন, একেবারেই নষ্ট হয়ে যাওয়া বগি যখন ঠিক করা হয় তখন তা আরো ২০ বছর চালানোর উপযোগী হয়।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, একেকটি বগি বিদেশ থেকে কিনে আনতে খরচ হয় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা খরচ করে অচল হয়ে যাওয়া বগিগুলোকে পুরোদমে সচল করে রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক এফ এম মহিউদ্দিন বলেন, এরই মধ্যে যে গাড়িগুলো ঠিক করা হয়েছে তার গড় খরচ ৭৫ লাখ টাকা। আমরা ১৭টি গাড়ি ঠিক করেছি, আগামী অর্থবছরের মধ্যে আমরা আরো ১০ থেকে ১২টি গাড়ি ঠিক করে ফেলব।

একটি বগির কার্যকাল মেয়াদ থাকে ৩০ থেকে ৩৫ বছর। মেরামত হওয়া এসব বগি বড় কোনো সংস্কার ছাড়াই ১০ থেকে ১৫ বছর চলাচল করতে পারবে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা পূরণে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হবে ৬০ কোচ। এজন্য বন্দর নগরী চট্টগ্রাম রেলওয়ের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে এগুলোর মেরামত চলছে। ঈদের তিন দিন আগে সব কোচ সরবরাহ সম্পন্ন করতে জোরেসোরে চলছে কাজ। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় ১১টি শপের শ্রমিকদের যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এবার ঈদুল ফিতরে ৮০০ কোচে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যে ভালো আছে ৭৩০টি কোচ। বাকি ৭০টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। ক্যারেজ শপ, ওয়াগন শপ, পেইন্ট শপ, হুইল শপ, ওয়েল্ডিং শপ, স্মিথি শপ, ফাউন্ড্রি শপ, সিএইচআর শপ, জিওএইচ শপ, এসিটিএল শপ, জিইআর শপের শ্রমিকরা রমজানের শুরুর দিন থেকে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমদ বলেন, প্রতি ঈদের মতোই এবারও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পাহাড়তলী থেকে ৬০টি অতিরিক্ত কোচ সরবরাহ করা হবে। চাহিদা আরো বেশি থাকলেও কারখানার জনবল ও অবকাঠামো সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অতিরিক্ত এসব কোচ সরবরাহ করা হবে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পিডিএসও/রি.মা