শ্যামগঞ্জে ড্রায়ার মেশিনের কারখানা পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৪০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্যামগঞ্জ বাজারে ‘ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে তৈরি ‘বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার (ধান শুকানো যন্ত্র)’ মেশিন তৈরির কাজ তদারকি করতে কারখানা পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

বুধবার ময়মনসিংহ থেকে শ্যামগঞ্জ পৌঁছেন তিনি। এ সময় তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অর্ভ্যথনা জানান নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়া, পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নমিতা দে এবং ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী আবদুর রাজ্জাক।

কারখানা পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, আমি একজন প্রেসিডেন্টের সন্তানের চেয়ে কৃষকের সন্তান পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমার বাবা-মা কৃষক। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। এখানে গ্রামের কৃষকরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি করে যাচ্ছেন, সেটা সত্যিই প্রশসংনীয়।

জানা গেছে, আমেরিকার অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্রবিভাগের  প্রফেসর  ড.  মো. মঞ্জুরুল আলম ও ড. চয়ন কুমার সাহা  বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার মেশিন উদ্ভাবন করেছেন। ২০১৫ সালে এই ড্রায়ার মেশিনটি উদ্ভাবনের পর বাণিজিকভাবে দেশের বিভিন্ন কারখানায় এই মেশিন তৈরি হচ্ছে। শ্যামগঞ্জের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কশপ ওই মেশিন তৈরি করছে।

ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও ফর্মুলা অনুসরণ করে আমরা এই ড্রায়ার মেশিন তৈরি করেছি। প্রতিটি মেশিন তৈরিতে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এই মেশিনে এক সঙ্গে ১০ থেকে ১২ মণ ধান শুকানো যাবে। মূলত বৃষ্টি কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকের উৎপাদিত ধান শুকাতে যেন দুর্ভোগ না হয়, সেই দিক বিবেচনা করেই  বৈদ্যুতিক এই ড্রায়ার  মেশিন তৈরি করা হয়েছে।

কারখানা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী সুরজিৎ সরকার, পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ তাওহিদুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মিজানুর রহমান, গোয়ালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আল মামুন শহীদ ফকির,  ব্যবসায়ী মতিউর রহমান খান, আবদুল কুদ্দুস তালুকদার, মিল মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

পিডিএসও/তাজ