নুসরাত হত্যা : আরও এক পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৭

অনলাইন ডেস্ক
ইফতেখার উদ্দিন রানা

ফেনী সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ইফতেখার উদ্দিন রানা (২১) ও এমরান হোসেন মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার গভীর রাতে রাঙ্গামাটি শহরের টিঅ্যান্ডটি আবাসিক কোয়ার্টার থেকে ইফতেখার উদ্দিন রানা ও  শনিবার বিকাল চারটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্রগ্রাম উপজেলা থেকে এমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, তদন্তে ইফতেখার উদ্দিন রানার নাম এসেছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সোনাগাজী উপজেলার চরগণেশ গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।

ফেনী পিবিআই এর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এমরান হোসেন মামুন ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং সে আগে সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

জানা গেছে, মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় এজাহারভুক্ত আট জনসহ এর আগে আরও ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

এদের মধ্যে রয়েছে- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।   

পিডিএসও/রি.মা