ময়মনসিংহ সিটির প্রথম মেয়র হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১০

অনলাইন ডেস্ক

ইতিহাসে উঠছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নাম। প্রথম নির্বাচনেই দেশের দ্বাদশ এ সিটির নগরপিতা হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে এটি শুধু মসিকের জন্যই নয়, দেশের কোনো সিটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নগরপিতা হওয়ার খবরও প্রথম।

এই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু। ফলে এই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য ভোট দিতে হবে না ভোটারদের।

মঙ্গলবার বিকেলে মসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বৈধ ঘোষিত দুই প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে মেয়র পদে একক প্রার্থী হিসেবে থেকে গেলেন ইকরামুল হক টিটু। 

এদিকে, টিটুর বিজয়ের এ আনন্দে সিটি এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। সবাই এখন থেকে টিটুকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। টিটু ১৯৭৬ সালের ১ আগস্ট ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারী। শামীম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক পদ দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। পৌর চেয়ারম্যান থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন টিটু।  

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও মসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবর শুনেছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন আসেনি। এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 
এর আগে এই নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন পাঁচজন। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুসা সরকার, বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী ও শহীদুল ইসলামের (স্বপন মন্ডল) মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তারা আপিল করলেও সেই আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এতে মেয়র পদে বৈধ প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের টিটু ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ময়মনসিংহবাসী ভোট দিয়ে নগরপিতা বেছে নেওয়ার সুযোগ হারালেন। 
এর আগে আগামী ৫ মে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে গত ২৫ মার্চ এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৮ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। বুধবার যাচাই-বাছাই শেষে আজ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকছে বৈধ প্রার্থীদের জন্য। ওইদিনই চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। 
২০১৮ সালের ২ এপ্রিল দেশের দ্বাদশ এই সিটি করপোরেশনের অনুমোদন দেয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর ময়মনসিংহকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ময়মনসিংহ সিটির আয়তন ৯১ দশমিক ৩১ বর্গমিটার। এই সিটির মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৫৮ জন। এর মধ্যে ৫ মে অনুষ্ঠেয় প্রথম ভোটের ভোট দেবেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ জন নারী ও ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৭ জন পুরুষ ভোটার। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৬ জন।

পিডিএসও/তাজ