৬ বছরেও রেলের ৮৬৫ খালাসির নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি!

নতুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫১ | আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২০:০২

অনলাইন ডেস্ক

২০১৩ সালে ৮৬৫ খালাসি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। দেশের হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক চাকুরির জন্য আবেদন করেন। ওই সব আবেদন যাচাই-বাছাই করতে পার হয়ে যায় দুই বছর। ২০১৫ সালে নেয়া হয় নিয়োগ পরীক্ষা। ওই পর্যন্তই। এক-দুই করে কেটে গেছে ৬ বছর! বেশির ভাগ প্রার্থীর চাকুরির বয়স পার হয়েছে। মারা গেছে নিয়োগ কমিটির এক সদস্য। তবুও নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা যায়নি। এ নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে না পারলেও নতুন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করছে রেলওয়ে!

৬ বছর আগের নিয়োগ চুড়ান্ত করতে বাধা কোথায়? কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে? এমন প্রশ্নের জবাব জানা নেই রেল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে আসীন কর্তাদের। তবে, জানিয়েছেন একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে। এতে সংকটে পড়েছে নিয়োগ কমিটি। তবে, আইনগত কোনো বাধা না থাকায় শিগগির নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, নিয়োগ কমিটির সদিচ্ছা না থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম ঝুলে রয়েছে। তারা ইচ্ছা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করছে না। তাদের সদিচ্ছা থাকলে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করতে এতো সময় লাগার কথা নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করতে কমিটি যতই দেরি করবে, ততবেশি সুযোগ নিবে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত চক্র।  

সূত্র জানায়, নিয়োগ চুড়ান্ত করতে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। উচ্চ আদালতে ৭টি রিট করেছে ওই চক্রটি। চাকরি দেওয়ার কথা বলে  বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা আদায় করছে তারা। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে ওই টাকা আত্মসাৎ করতেই তৎপর ওই চক্রটি। রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠন, অবসরপ্রাপ্ত চিহ্নিত কিছু সিবিএ নেতা-কর্মচারি রেলে অস্থায়ীভাবে কর্মরত কিছু ব্যক্তি তাদেরকে চাকরিতে স্থায়ী করার দাবিতে বিভিন্ন কৌশলে একের পর এক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করেছে বলে অভিযোগ আছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ছয়টি রিট আগে নিষ্পত্তি হয়েছে। একটি রিট চলতি বছরের ১১ মার্চ নিষ্পত্তি হয়েছে। যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আর কোনো বাধা নেই। এখন নিয়োগ কমিটি চাইলে যেকোনো সময় নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করতে পারেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেলওয়ে সংসদীয় কমিটির এক সদস্য একটি বড় তালিকা পাঠিয়েছেন। তার তালিকার সবার বাড়ি চট্টগ্রামে। আবার চট্টগ্রামের প্রার্থীদের জন্য অন্যান্য মন্ত্রী ও এমপিদেরও সুপারিশ রয়েছে। ফলে নতুন করে সংকটে পড়েছে নিয়োগ কমিটি। 

তবে, ১৯৮৫ সনের ৮৫ নিয়োগবিধি অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি নিয়োগের ক্ষমতাবান হচ্ছেন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)। কিন্তু রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক চাপ ও তদবিরের কাছে জিম্মি হয়ে আছে জেনারেল ম্যানেজারের ওই ক্ষমতা। সার্বিক পরিস্থিতিতে এক হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি বিরাজ করছে রেল মন্ত্রনালয়ে।

উল্লেখ্য, রেলওয়ের অনুমোদিত লোকবল ৪০ হাজার ২৬৪ জন। এর বিপরীতে কর্মরত আছে ২৭ হাজার ৫৩৫ জন।

পিডিএসও/রি.মা