পাবনায় ১৫ জেলার ৫৬৫ জন চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

যারা আত্মসমর্পণ করেন নাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫৭

পাবনা প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুুুুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরজা সব সময় থোলা থাকবে। আর যারা আত্মসমর্পণ করেন নাই তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিণী কঠোর ব্যবস্থা নিবে। যারা করেছে তাদের জন্য সরকার সব ধরণের সুযোগ সুবিধা এবং আইনি সহায়তা দিবে যাতে করে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাবনা জেলা পুলিশ আয়োজিত ১৪ জেলার ৫৬৫ জন চরমপন্থি নেতাদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, যারা আত্মসমর্পন করেন নাই তারা মনে করেন না যে পার পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, আপনারা যারা সন্ত্রাস করবেন আর আমাদের পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা চুপ করে বসে থাকবে? আপনাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের পুলিশ আগের মত নেই। পুলিশ অনেক চৌকশ এবং দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা গ্রামগঞ্জে সন্ত্রাসী চালাবেন আর আমাদের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনী চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা কখনো হতে পারে না, সময় থাকতে আলোর পথে আসুন, আলোকিত জীবন গড়ুন। আপনাদের পুনর্বাসনের জন্য এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন সেই জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু প্রণোদনা এবং উপঢৌকন পাঠিয়েছেন সেটা দিয়ে আপনারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উপকরণ তৈরি করবেন।

এক সময়ের চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য পাবনায় মঙ্গলবার ছিল অন্যরকম একটি দিন। চার যুগেরও বেশি সময় ধরে যাদের কাছে জিম্মি ছিল সাধারণ মানুষ, নৃশংসতার পথ ছেড়ে তারাই ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে আসা হাজারো মানুষের ছিল তাই বাঁধভাঙা আনন্দ।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলা থেকে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করে বিভিন্ন চরমপন্থি দলের সদস্যরা। বিকেলে পূর্ববাংলার সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটি দলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জেলার ৫৬৫ জন চরমপন্থী ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্যে পাবনায় বাবলু প্রামানিকের নেতৃত্বে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) এবং ইউসুফ ফকিরের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার সর্বহারা দলের ১৬০ জন চরমপন্থি সদস্যের ২৩ টি অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে।

২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নিকট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ৪ শতাধিক চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেছিল। নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলগুলোর হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইয়ে এ অঞ্চলের মানুষ ছিল ভীতসন্ত্রস্ত। দুর্ধর্ষ চরমপন্থিদের আজকের আত্মসমর্পণে রক্তাক্ত সে ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটলো বলেই মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এসময় অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে চরমপন্থিরা জানান, প্রতিনিয়ত মৃত্যু থেকে পালিয়ে ফেরা অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতেই তাদের এই আত্মসমর্পণ।

অনুষ্ঠানে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা -১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  এড. শামসুল হক টুকু এমপি। 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরিফ ডিলু,  রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হক, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-৩ আসনের সাংসদ মকবুল হোসেন, পাবনা-২ আসনের সাংসদ আহমেদ ফিরোজ কবির, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ নাদিরা ইয়াসমিন জলি, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন, পাবনা  জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

 

পিডিএসও/রি,মা