মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস

ভূমিদস্যুদের কারণে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা * মহাবিপর্যয় এড়াতে ৩৬ সুপারিশ * প্রশাসনের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১০:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত এক যুগে প্রায় ৪০০ মানুষের মৃত্যুর পরও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামে পাহাড়ের ঢালে এখনো বাস করছে শত শত পরিবার। বর্ষার আগে জেলা প্রশাসন তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও ভূমিদস্যুদের প্রভাবে তা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। ২০০৭ সালে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর মহাবিপর্যয় এড়াতে ২৯টি কারণ চিহ্নিত করে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ৩৬টি সুপারিশ করে। কিন্তু এখনো বাস্তবায়ন হয়নি একটিও।

নগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাড়ের নিচে বসবাস করে শত শত পরিবার। শুধু মতিঝর্ণা নয়, এ রকম ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে লাখো মানুষ। এখানে বসবাসকারী একজন জানান, জায়গাটা তারা ভুলু কমান্ডার নামে এক লোকের কাছ থেকে বছর ৪০ আগে কিনেছেন। আরেকজন বললেন, ‘আমাদের দিকে তো পাহাড় পড়ে না, পড়লে তো ভয় পেতাম।’

চারদিকে পাহাড়। আর এসব পাহাড়ের নিচে নিম্ন আয়ের মানুষের বাস। দূর থেকে দেখলে মনে হবে মৃত্যুকূপ। জেলা প্রশাসন বলছে, প্রতি বছর বর্ষার আগে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় পুনরায় তারা বসবাস শুরু করে।

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এক রাতের মধ্যে দেখা যায়, টিনের ঘর তুলে তারা থাকতে শুরু করে। সেটা তো সব সময় আমাদের চোখে পড়ে না, ফলে সরিয়ে আনার কাজটিও আমরা করতে পারি না।’

চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা আফরিন মোস্তফা বলেন, ‘যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন তাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করব। যতটুকু পারা যায়, প্রাণহানি রোধ করার চেষ্টা করব।’ নগরবিদরা বলছেন, প্রশাসনের গড়িমসি ও গত ১২ বছরে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে তাদের কিন্তু এ জমির ওপর কোনো মালিকানা নেই। তার পরও বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ পাচ্ছে। কীভাবে পাচ্ছে? এক ধরনের প্রভাবশালী মহল চাইছে না এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হোক এবং এ সমস্যার নিরসন হোক।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ৫০০র বেশি পাহাড় রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৮টি পাহাড়ে বসবাস করছে ৬৬৮টি পরিবার।

পিডিএসও/তাজ