জীবনে প্রথম চকবাজার গিয়ে লাশ হলেন ডা. আশরাফ

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৮

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ডাক্তার বন্ধু ইমতিয়াজ ইমরুল রাশুর চেম্বার পুরান ঢাকা চকবাজারে মদিনা ডেন্টাল ক্লিনিকে ব্যবহারিক কাজ শিখতে গিয়েছিলেন ডা. আশরাফুল হক রাজন। জীবনের প্রথম পুরান ঢাকার চকবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, প্রথম সেখানে গিয়েই পুড়ে লাশ হয়েছেন ডা. আশরাফুল হক রাজন। একই সময় তার সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তার বন্ধু ও চকবাজারে মদিনা ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক ঢাবির ছাত্র হাফেজ কাউছার আহম্মেদ।

আশরাফুল বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মাকে বলে গেছেন ফিরতে দেরি হবে। মা গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন ছেলের জন্য। মোবাইল ফোনে রিং হলেও ফোন ধরছেন না ছেলে। উৎকণ্ঠায় পুরো পরিবার। সকালে তার ক্যাম্পাস বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে গিয়ে তার পরিবার জানতে পারে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে পুরান ঢাকায় গেছেন আশরাফুল।

তার ভাইরা ছুটে যান পুরান ঢাকার চকবাজারে। কিন্তু ঘটনাস্থলে যেতে না পেরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তারা। হাসপাতালে আহতদের তালিকায় ভাইকে না দেখতে পেরে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায় তাদের।

এ সময় মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে তার ছোট ভাই মো. ফখরুল হক সুজন। তার মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে পৌঁছালে তার আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বাবা জামশেদ মিয়ার স্বপ্নপূরণ করতেই ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে ডেন্টাল বিভাগে ভর্তি হন ডা. আশরাফুল হক রাজন। নিজ গ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে বিনামূল্যে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করবেন এই স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন বন্ধুর কাছে ব্যবহারিক কাজ শিখতে। কিন্তু অগ্নিকা-ে তার স্বপ্ন পোড়ে কয়লা হয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, তার সঙ্গে আরো দুই বন্ধুর স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটে আগুনের লেলিহান শিখায়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তার প্রিয় ক্যাম্পাস বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে প্রথম জানাজা ও শুক্রবার তার গ্রামের বাড়ি ফরদাবাদে সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম সমবেদনা জানাতে নিহতের বাড়িতে শুক্রবার দুপুরে যান। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. আশরাফুল হকের বাবা জামশেদ মিয়া জানান, ‘আমার ছেলে খুবই মেধাবী ও ধার্মিক ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেবে। আমার ইচ্ছা পূরণ করতে সে সব সময়ই চেষ্টা করত। ডাক্তারি শেষ করে ব্যবহারিক কাজ শিখতে বন্ধুর চেম্বারে গিয়েছিল। আর আগুন আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল।’

পিডিএসও/তাজ