মিতুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়া এবং স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ নিয়ে কিছু কিছু বিষয়ে মিতুর স্বীকার

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আকাশের মা জোবেদা খানম বাদি হয়ে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে প্রধান আসামিসহ মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছেন।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সিএমপির চান্দগাঁও থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে নিহতের মা এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা আকাশের আত্মহত্যায় মিতুসহ তার পরিবার ও বন্ধুর প্ররোচনা আছে কি-না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদি প্ররোচনার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রতিদিনের সংবাদকে জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বশর।

বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক আকাশের আত্মহত্যায় তার ফেসবুক আইডিতে স্ত্রীকে জড়িয়ে স্ট্যাটাস এবং আকাশের পরিবারের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর নন্দনকানন এলাকার একটি বাসা থেকে আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে আটক করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। 

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) অতিরিক্ত কমিশনার ( উত্তর) মো. মিজানুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আকাশের মা বাদী হয়ে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আকাশের মৃত্যুর পেছনে যদি কারো ইন্ধন থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটকের পর মিতুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়া এবং স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ নিয়ে কিছু কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন। আরো অনেক বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. আকাশের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর পড়াশোনার জন্য ইউএসএ চলে যায় মিতু। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দেশে ফেরে মিতু। এরপর দু’জনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ আরো প্রকট হয়ে উঠে।

মামলার বাদী আকাশের মা জোবেদা খানম প্রতিদিনের সংবাদকে জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলেকে ওরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আমি মামলা করেছি। আমি আর কিছুই চাইনা শুধু আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই’।

এদিকে আটকের পর মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শাহ আমানত (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।একইসঙ্গে মোস্তফা মোরশেদ আকাশের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও পুলিশ জব্দ করেছে। পরে শুক্রবার ভোর থেকে আকাশ তার ফেসবুকে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ও বিভিন্ন ছবি সম্বলিত যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তা ডিলিট করে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. আকাশের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর পড়াশোনার জন্য ইউএসএ চলে যায় মিতু। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দেশে ফেরে মিতু। এরপর দু’জনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ আরো প্রকট হয়ে উঠে।

প্রসঙ্গত: বৃহষ্পতিবার রাতভর আকাশের চাঁদগাও আবাসিক এলাকার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। ওই সময় আকাশের বাসায় একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। যে ভিডিওতে মিতু তার একাধিক বন্ধুর সঙ্গে অনৈতিক সর্ম্পকের কথা স্বীকার করে। তবে ভিডিও ধারণের সময় মিতুকে আতঙ্কিত দেখা গেছে এবং তার ঠোঁট রক্তাক্ত ছিল। দু‘জনের ঝগড়ার একপর্যায়ে মিতুর বাবা ইঞ্জিনিয়ার আনিসুল হক চৌধুরী দিবাগত রাত ৪টার দিকে স্বামীর বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে যান। এরপর আকাশ ফেসবুকে মিতুকে জড়িয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে শরীরে ইঞ্জেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন।

পিডিএসও/রি.মা