বিএনপির অফিস এখন খাবার হোটেল!

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩১ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৭

রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ama ami

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মিঞা আহমেদ কিবরিয়া। শহরের ফায়ার সার্ভিসের সামনে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ভবনে ভাড়া চুক্তিতে জেলা বিএনপির অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বিএনপি অফিসের চুক্তিনামা ছিলো মিঞা আহমেদ কিবরিয়ার নামেই। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার ১২ দিনের মধ্যে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের ভাড়া চুক্তি বাতিল করে সাইনবোর্ড অপসারণ ও মালামাল নিয়ে গেছেন তার লোকজন। 

শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলেই ভবনের মালিক পক্ষ মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম তালা মেরে দেয়। বর্তমানে সেই ঘরটিতে পূর্বের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরাফাত হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের স্টিকার লাগিয়েছে মালিকপক্ষ। ফলে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার মত অফিস ঘর না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। 

বিএনপি অফিসের তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ হোসেন বলেন, শুক্রবার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা মিঞা আহমেদ কিবরিয়া ফোন করে অফিসের চাবি মালিক পক্ষের লোকজনের কাছে দিতে বলেন। ফরিদ সভাপতি ও সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চাবি দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে অফিসের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। এ সময় কিবরিয়া ফরিদকে বলেন এই ভবন আমার নামে ডিড করা। তুমি মালিক পক্ষের লোকজনকে চাবি দিয়ে দাও। পরে ফরিদ মালিক পক্ষের সাইফুলকে চাবি দিলে তার সঙ্গে থাকা আরো কয়েকজন অফিসের মালামাল বাইরে বের করে অফিস তালা মেরে দেয়। কিবরিয়ার বড় ভাই মরহুম জাকারিয়ার শ্বশুর পক্ষের লোকজন ভবনটির মালিক। 

নেতা-কর্মীরা জানান, জেলা কার্যালয়টি মূলত ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়ার উদ্যোগেই কয়েক বছর আগে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হয়েছিলো। এতদিন কিবরিয়াই এই ভবনের ভাড়া পরিশোধ করেছেন। 

দলীয় নেতা-কর্মীদের ধারণা, এবার মনোনয়ন না পেয়ে কিবরিয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে অফিস ছেড়ে দিয়েছেন। 

জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, আমার কাছে কিবরিয়া সাহেব ফোন করে বলেছেন, আমি অফিস ছেড়ে দিয়েছি, মালিক পক্ষকে ভবন বুঝিয়ে দিতে হবে। এ সময় আমি কিবরিয়াকে বলি, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর জেলে রয়েছে সে বের হলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে। কিন্তু এরপরে শুনি অফিসের মালামাল বের করে তালা মারা হয়েছে। অফিসের মালামাল আমরা বুঝে রাখিনি। 

এ বিষয়ে মিঞা আহমেদ কিবরিয়া বলেন, আমার আত্মীয়র কাছ থেকে এই অফিসটি আমি ভাড়া নিয়েছিলাম। এখন পারিবারিক সমস্যার কারণে অফিসটি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। অফিসের মালামাল আমার হেফাজতে রয়েছে। 

পিডিএসও/অপূর্ব