‘আল্লায় ডিসি সাহেবের মঙ্গল করুক’

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:০৭ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৮

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শুক্রবার রাত ১০টা। হঠাৎ করে ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসির আগমন হোটেলে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কয়েক গাদা কম্বল। হোটেলে কর্মরত শ্রমিকদের একটা একটা করে কম্বল দিয়ে চলে গেলেন ডিসি। কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও শহরের গাওসিয়া হোটেলের শ্রমিক ইউনুস আলী (৫৮)। 

প্রচণ্ড শীতের রাতে হোটেলে কর্মরত শ্রমিকদের কষ্ট নিজের চোখে দেখতে বের হন ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম। সঙ্গে নিয়ে যান সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ১শ কম্বল। সাথে নিজের টাকায় ২০টা কম্বলও কিনে নিয়ে যান তিনি। 

শুক্রবার রাত ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের গাওসিয়া, বিক্রমপুর সহ কয়েকটি হোটেলে ঘুরে তিনি কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন; শোনেন শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা। এরপর হোটেলে কর্মরত ৭০ জন শ্রমিক ও ৫০ জন গরিব দুস্থদের কম্বল দেন। 

বিক্রমপুর হোটের শ্রমিক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিনের প্রচণ্ড শীতে হোটেলে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। এখন একটা কম্বল পেয়ে খুব ভালো হলো; কম্বলটা শরীরে জড়ায় কাজগুলো করলে একটু শান্তি পাওয়া যাবে। আল্লায় ডিসি সাহেবের মঙ্গল করুক।’

জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, হোটেলে কর্মরত শ্রমিকদের কষ্ট দেখেই তিনি কম্বল দিয়েছেন। অনুষ্ঠান করে কম্বল দিলেও হোটেল শ্রমিকরা তা পায় না। তাই নিজে হোটেলের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুঃখ ভাগাভাগি করে নেন। 

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলায় ২৪ হাজার শীতবস্ত্র এসেছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ কম্বল গরিব অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। 

পিডিএসও/অপূর্ব