সিলেটে ২৩০০ বন্দিকে নতুন কারাগারে স্থানান্তর

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৬

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি
ama ami

সিলেটে কড়া নিরাপত্তায় নতুন কারাগারে বন্দিদের স্থানান্তর শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শহরতলীর বাদাঘাটে নবনির্মিত কারাগারে বন্দিদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুরুতে নারী হাজতিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। 

সিলেটের সদর উপজেলার বাদাঘাটে নবনির্মিত কারাগারটি তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। 

সকাল পৌনে সাতটার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত কারাগারে নারী হাজতিদের নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কয়েদিদের নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে হাজতিদের স্থানান্তর কার্যক্রম চলে বিকেল পর্যন্ত। 

কারাগার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে বন্দিদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট ২ হাজার ৩০০ জন বন্দিকে নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সকল বন্দিদের স্থানান্তরে দু’দিন সময় লাগার বিষয় শুরুতে জানালেও প্রথম দিনেই সবাইকে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। 

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তায় বন্দিদের স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলেন। আজকের মধ্যে আমাদের ২ হাজার ৩০০ বন্দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে।’ 

কারাগার সূত্র জানায়, বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ জন। এদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছেন ৫০০ জন এবং হাজতি রয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। বন্দি স্থানান্তর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সকাল থেকে শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন কারাগার এবং সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপারে পুরাতন কারাগারে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র‌্যাবের চৌকস দলের নেতৃত্বে বন্দিদের স্থানান্তর করা হয়। 

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা নির্বিঘ্নে সকল কয়েদিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর কাজ শেষ করেছি। সকাল পৌনে ৭টা থেকে আমরা এই কাজ শুরু করি। বিশেষ করে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি, জেএমবি সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। কঠোর নিরাপত্তায় আমরা একদিনেই সকল কয়েদিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তরের কাজ শেষ করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘স্থানান্তরের আগের দিন, স্থানান্তরের দিন ও আজ আমরা ব্যস্ত থাকবো। তাই বন্দিদের আত্মীয়স্বজনরা এলে তাদের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়াটা সম্ভব হবে না। এজন্য আমরা ১০, ১১ ও ১২ তারিখ আত্মীয়স্বজনদের কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নিরুৎসাহিত করে নির্দেশনা দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালে আসামের কালেক্টর জন উইলিশ সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল ধোপাদিঘীর পাড়ে ২৪ দশমিক ৭৬ একর জমির ওপর কারাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ এটি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রুপান্তরিত হয়। তখন কারাগারের ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ১ হাজার ২১০ জনে। 

জরাজীর্ন অবস্থার পাশাপাশি কারাগারে রাখা হয়েছে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন বন্দিকে। বন্দিদের মানবেতন জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সিলেট নগর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বাদাঘাটে ৩০ একর জমির উপর নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১১ সালে দু’শ ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কারাগার নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। 

তবে ওই বছর আগষ্টে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হলেও ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। 

সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এর কাজ, পুকুর খনন ও গ্যাস সংযোগ ছাড়া ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুন মাসে। 

পিডিএসও/অপূর্ব