‘হামরা ঠান্ডাত শেষ হয়াগেইনো বাহে’

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

দিনের বেলায় মাঝে মধ্যে রোদের ঝিলিক শরীরে পড়লেও কোনও তাপ অনুভূত হয়না উত্তরাঞ্চলের মানুষের। হিমেল হাওয়া ও রোদের ঝিলিকের লুকোচুরির মধ্যেও কাঁপে এই অঞ্চলের মানুষজন। সন্ধ্যার পর পরই শীতের চাদর ঢেকে ফেলে প্রকৃতিকে। চোখের দৃষ্টি আলো দিয়েও বেশি দূর নেওয়া যায় না। রাতভর গাছের পাতা বেয়ে ঝড়ঝড় শব্দে বৃষ্টির মত পানি ঝড়ে। 

শিশু ও বয়স্ক মানুষের শরীরের রক্ত জমাট বেঁধে ফেলে প্রায়। এতে করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  সহজেই। এজন্য শীত জনিত রোগের প্রাদুর্ভাবে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা আক্রান্ত হয়ে ভীড় জমাচ্ছেন হাসপাতালগুলোতে। 

শুক্রবার সকালে এখানকার মানুষ সূর্যের মুখ দেখতে পেলেও হিম বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে। কাঁপছে এখানকার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। শরীরে চাঁদর, সুয়েটার ও মাথায় মাফলার বেধে ঠান্ডা নিবারনের চেষ্টা করছে তারা। খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের তাপে শীতল শরীরকে গরম করার চেষ্টা করছে অনেকেই। 

রংপুর মহানগর ও পীরগাছা উপজেলার পাওটানাহাটে ফুটপাত ও বিভিন্ন হাট বাজারে শীতের পোষাক বেচা-কেনা জমেছে উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের মহানগর, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে বিভিন্ন সংগঠন শীতের কম্বল বিতরণ করে খ্যাতি অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু শীতে কাবু প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষজন অধরায় রয়েছে। সেখানে কেউই কোনও সহযোগিতা নিয়ে যাচ্ছেনা শীতার্তদের পাশে। এমনকি তাদের শীত নিবারনের জন্য কেউই এগিয়ে আসছেন না বলে ভুক্তভোগী শীতার্তরা জানিয়েছেন।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও সহ উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষরা দ্রুত শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছে। 

শুক্রবার নগরীর দমদমা এলাকার গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা খড়কুটো জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। একই এলাকায় শীতজনিত কারণে গরু ছাগলকে চট গায়ে দিয়ে দেন মোছা নিলি বেগম। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেয়ে শিশু লিয়ন বলে, ‘হামরা ঠান্ডাত শেষ হয়াগেইনো বাহে। হামাক নিয়া নেখা নিকি কর সরকার হামার গুলাক শীতের কাপড় দেয়।’ 

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউপির গাবুড়ার চরের হবিবুর রহমান, কিশামত ছাওলার আবুবক্কর সিদ্দিক, গঙ্গাচড়া উপজেলার চর ছালাপাকের রমিছা বেওয়া ও আমান উদ্দিন সহ রংপুর মহানগরীর তাঁতীপাড়ার মেনাজুল জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে ছোট ছোট শিশুদের পাতলা পায়খানা, বমি, কাঁশি সহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, শীতের কারনে হাঁপানী ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, এসব রোগের প্রকোপ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

পিডিএসও/অপূর্ব