সিলেটে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্থানান্তর শুক্রবার

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০৭

তুহিন আহমদ
ama ami

উদ্বোধনের তিন মাস পর বন্দি স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হচ্ছে সিলেটের সদর উপজেলার বাদাঘাটে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগার। শুক্রবার থেকে সিলেট নগরের জেলরোডস্থ পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিন মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগারটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর কারাগারটির নির্মাণ কাজ পুরোদমে শেষ হয় গত বছর জুলাই মাসে।  

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সমন্বয় বৈঠকের মাধ্যমে বন্দি স্থানান্তর করার কথা ছিল। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জানুয়ারি সমন্বয় বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকেই শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন বন্দি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বন্দিদের ব্যবহারের পানি সরবরাহের টেস্টিং প্রতিবেদনের কারণেও স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় শুক্রবার থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তর। 

কারাগার সূত্র জানায়, বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে না এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

কারাগার সূত্র জানায়, আধুনিক নানা সুবিধা নিয়ে নির্মাণ করা হয় নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার। এখানে রয়েছে দুই হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতা। পাশাপাশি রয়েছে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, একশ শয্যার পাঁচতলা বিশিষ্ট হাসপাতাল, ২০ শয্যার মানসিক হাসপাতাল, ২৫ শয্যার টিবি হাসপাতাল, স্কুল ও লাইব্রেরি ভবন ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ১৩০টি ফ্ল্যাট। 

তবে এসব সুবিধা থাকলেও বন্দি স্থানান্তর না হওয়ায় সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কেউই। বন্দিদের ব্যবহারের জন্য যে পানি সরবরাহ করা হবে সেটি পরীক্ষার পর ফলাফল পর্যালোচনার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দিদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল বলেন, ‘বন্দিদের স্থানান্তরের বিষয়ে একটি সমন্বয় বৈঠক করার কথা ছিল। সেটি গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের স্থানান্তরের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে নতুন কারাগারটি।’

গত বছর নভেম্বরে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কারাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ মাস পর কারাগারটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, বিজিবি নিয়ে একটা সমন্বয় বৈঠক করে সেখানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে বন্দিদের স্থানান্তর করা হবে এমনটা জানিয়েছিলেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল।

সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালা মনে করেন, বন্দি স্থানান্তরের আগে যাতায়াতের সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার করা দরকার। ভাঙা সড়কে বন্দি নিয়ে যাতায়াত করা নিরাপদ হবে না বলেও মনে করেন তিনি। 

মোহাম্মদ লালা বলেন, ‘যদিও নবনির্মিত কারাগারটি উদ্বোধন হয়েছে। এটি শহর থেকে অনেক দূরে। আগে কারাগারে যাওয়ার সড়কটি সংস্কার করা হোক। সংস্কারের পরে বন্দিদের স্থানান্তর করা হলে দুর্ঘটনা ঘটার কোনো আশঙ্কা থাকবে না।’

১৭৮৯ সালে আসামের কালেক্টর জন উইলিশ সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল ধোপাদিঘীর পাড়ে ২৪ দশমিক ৭৬ একর জমির ওপর কারাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ এটি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রুপান্তরিত হয়। তখন কারাগারের ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ১ হাজার ২১০ জনে।

বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। জরাজীর্ন অবস্থার পাশাপাশি কারাগারে রাখা হয়েছে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন বন্দিকে। বন্দিদের মানবেতন জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সিলেট নগর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বাদাঘাটে ৩০ একর জমির উপর নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১১ সালে দু’শ ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কারাগার নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

তবে ওই বছর আগষ্টে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হলেও ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এর কাজ, পুকুর খনন ও গ্যাস সংযোগ ছাড়া ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়।

সিলেট বিভাগীয় গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কুতুব আল হোসাইন জানান, কারাগার নির্মাণ প্রল্পের মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ৩০শে জুন। 

পিডিএসও/অপূর্ব