স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর আম চাষীরা

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১১

এস এইচ এম তরিকুল

এখন চলছে পৌষ মাস। শীতের ভরা মৌসুম। এরই মধ্যে আমের রাজধানী রাজশাহীতে শুধু আগাম মুকুলই নয়, দেখা মিলেছে গুটিরও (কোড়ালি)। রাজশাহী মহানগরীসহ আশেপাশের উপজেলার কিছু স্থানে দেখা দিয়েছে আগাম মুকুল। ওইসব এলাকার বাতাসে বইছে মৌ মৌ গুঞ্জন ও সুবাস। 

অসময়ে এমন সুস্বাদু ফল গাছে মুকুল দেখা দেওয়ায় পথচারীরাও থমকে দাড়িয়ে তা অবলোকন করছেন। কেউ কেউ সেই আমের জাতে কোনো ভিন্নতা আছে কি না তা জিজ্ঞাসা করছেন গাছের মালিককে। এসব গাছে মৌসুমের ন্যায় তুলনামূলকভাবে কম মুকুল আসলেও খুশি গাছিরা। আগাম উৎপাদনে বেশি দামে আম বিক্রির আশায় স্বপ্ন দেখছেন তারা।
 
মহানগরীর লক্ষীপুর-ভাটাপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ মেমোরিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের গাছে দেখা যায় বেশ কিছু কোড়ালির। এছাড়াও একই দৃশ্য দেখা গেছে মহানগরীর ভদ্রা আবাসিক এলাকা, গৌরহাঙ্গা, শিরোইল, ভেড়িপাড়া, পুলিশ লাইন, মালোপাড়া ও মেহেরচন্ডিতে। 

এছাড়াও পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া, তারাপুর, পবা উপজেলার মতিয়া বিল, দারুশা, গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম, চারঘাট উপজেলার শলুয়াসহ অনেক স্থান থেকেও আম গাছে মুকুল দেখা গেছে এমন খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। এসব গাছে মৌসুমের ন্যায় তুলনামূলকভাবে কম মুকুল আসলেও খুশি গাছিরা। আগাম উৎপাদনে বেশি দামে আম বিক্রির আশায় স্বপ্ন দেখছেন তারা। ফলে এসব গাছে পরিচর্যার মাত্রাও বাড়িয়ে দিয়েছে।  

তবে আগাম মুকুল দেখে আম চাষিরা খুশি হলেও একাধিক কৃষি কর্মকর্তাদের মতে অসময়ের কোনো কিছুই সেভাবে ভালোর লক্ষণ হিসেবে দেখাটা তেমন যৌক্তিক নয়। কারণ, ঘন কুয়াশা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় ঠান্ডা পড়লেই এসব গাছের মুকুল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এমনকি আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে এসব মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে। 

ফলে সেসব গাছের মালিক বা ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তবে যেহেতু এবার এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ফল উৎপাদনমুখি অনুকূলে রয়েছে, যে কারণে এখন পর্যন্ত আগাম মুকুল আসা সেইসব আম গাছের মালিক বা ব্যবসায়ীদের ভয়ের কারণ নেই।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দিন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল হক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে রাজশাহী এলাকার কিছু সংখ্যক আমগাছে আগাম মুকুল দেখা দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই। বর্তমানে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তা অব্যাহত থাকলে এসব গাছের আম তুলনামূলকভাবে চড়া দামেই বিক্রি হবে। তবে এসব গাছের ফলের সাথে ভরা মৌসুমের চেয়ে খুব একটা বেশী পার্থক্য হবে না। কারণ, এগুলো আমের গ্রোথ কম হবে। শেষ পর্যন্ত আম পাড়ার উপযোগী হলে ফল মৌসুমের চেয়ে ১০-১৫ দিনের পার্থক্য থাকবে। আর কিছুদিন পর ফল মৌসুম শুরু হলে আগাম আসা সেইসব গাছে আবারো মুকুল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘তবে অতিরিক্তি ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা পড়লে কৃষিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ি ওইসব আম গাছে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করতে হবে। তাহলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবেনা। আর স্বাভাবিকভাবে ফল মৌসুমে আম গাছে মাত্র দুই দফায় দুইবার পরিমিতভাবে ওষুধ স্প্রে করলেই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে স্ব স্ব এলাকার কৃষিবিদদের পরামর্শ নিতে হবে। চলমান আবহওয়া অব্যাহত থাকলে এবার আমের ফলন বাড়বে- এমন প্রত্যাশা করছি।’ 

পিডিএসও/অপূর্ব