১০ টাকায় শীতের পোশাক!

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২০

এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী ব্যুরো

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজশাহীতে পড়ছে তীব্র শীত। হু হু করে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা বাতাশে জুবুথুবু হয়ে পড়েছেন এই এলাকার মানুষ। সবচাইতে বেশি সমস্যার পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূলরা। গরম পোশাকের অভাবে কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে তাদের। 

শীত নিবারণে নগরবাসী ছুটছেন গরম পোশাকের দোকানে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কিনছেন শীতের পোশাক। কিন্তু বিত্তবানরা দামী পোশাক কিনলেও সাধারণ খেটে খাওয়া ব্যক্তিরা গরম কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন ফুটপাতে। হতদরিদ্রের সাধ্যের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকাতে এসব ফুটপাতে মিলছে গরম কাপড়। যে দামের মধ্যে শুয়েটার, টুপি, মাফলার, চিকন জ্যাকেট ও ফুলহাতা গেঞ্জি। এমন সস্তায় শীতের পোশাক পেয়ে খুশি এসব ক্রেতারা। তবে ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকার মধ্যে মানসম্মত অনেক ধরণের পোশাক ফুটপাতে বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি দোকানীদের। 

এসব পোশাক কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত তা অনুমান করলেই বোঝা যায়। কিন্তু নিম্ন আয়ের দিনমজুররা স্বাস্থের বিষয়টি না ভেবেই তা ব্যবহার করছেন। এতে করে চর্ম রোগ হতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যে কারণে এসব পোশাক পরিধানের পূর্বে পানিতে জীবাণুনাশক এন্টিসেফটিক ব্যবহার করে তা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজার, আদালত চত্বর, লক্ষ্মীপুর, রেলগেট, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে ফুটপাতের এসব দোকানিরা ক্রেতার ভিড় জমাতে দাম হাকছেন ‘মাত্র দশ, দশ বলে।’ এ কারণেই শুধু নিম্ন আয়েরই নয়, ফুটপাতের এসব পোষাকের দোকানে ভিড় করছেন কৌতুহলী বিভিন্ন শ্রেণির পথচারীরাও। তবে কেউ কেউ আবার সেখান থেকে বেছে কিনছেন পছন্দের পোশাক। 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর আদালত চত্বরের ফুটপাত থেকে ক্রয় করা মধ্যবিত্ত এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন রেখে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘বাড়ির কাজের লোকদের জন্য কিনলাম, ‘২০ টাকা করে দাম হলেও কোয়ালিটি খুব খারাপ না। এ টাকায় আজকাল কি কোনো পোশাক পাওয়া যায়?।’

মমতাজ নামের আরেক ব্যক্তি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। এদের ডাকা হাঁকে দাঁড়ালাম। দুটি ফুল গেঞ্জি পছন্দ হওয়ায় কিনেও ফেললাম।’ 

ফুটপাত দোকানদার সাইফুল প্রতিদিনের সংবাদকে বললেন, ‘শীতের এসব পোশাক লট ধরে কেনা। গড় হিসেবে ৩ থেকে ৫টাকা লাভ রেখেই বিক্রি করছি। তাতেই সারাদিনে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হয়। এখানে সাধারণত গরীবরাই বেশী আসে। তবে কখনো কখনো বড় লোকেরাও আসে, কিনে নিয়ে যায়, কিন্তু তারা কি করে তা জানিনা। তবে কেনার সময় একা একাই বলে বাড়ির কাজের লোকদের গায়ে ভালোই লাগবে।’ 

এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর গরম পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। ছেলেরা জ্যাকেট ও শুয়েটার কিনলেও নারীরা চাদরের দোকানে বেশি ভিড় জমাচ্ছেন। তবে অভিজাত দোকানের থেকে সাহেব বাজার এলাকার ফুটপাতের দোকানে ভিড় বেশি হচ্ছে। সাধ ও সাধ্যের এসব ফুটপাতের দোকান থেকে পোশাক কিনছেন মানুষ। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার শীতের পোষাকের দাম বেশি বলেও অভিযোগ ক্রেতাদের। 

পিডিএসও/অপূর্ব