সরু চ্যানেলে ফেরি চলাচল, দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৮ | আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০৩

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
ama ami

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট কাটাতে নিয়মিত খননের কাজ করলেও ওয়ানওয়ে সরু চ্যানেলের কারণে পাশাপাশি দুটি ফেরি অতিক্রম করতে সমস্যা হচ্ছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

অন্যদিকে কুয়াশা পড়লে পাশাপাশি দুটি ফেরি অতিক্রম করতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা চ্যানেলের প্রশস্থ্যতা আরো বাড়ানোর দাবি করেছেন।

জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর পাটুরিয়ার তিন নাম্বার ফেরি ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা। ফেরিটি ঘাট ছেড়ে কিছুদূর আসার পর সরু চ্যানেল অতিক্রম করার সময় পিছনে ছোট-বড় আরো তিনটি ফেরি অপেক্ষা করছিল। এসময় বিপরীত দিকে দৌলতদিয়া থেকে আসা আরো চারটি ফেরি ওই চ্যানেলে প্রবেশের অপেক্ষা করছিল। 

অপেক্ষাকৃত মাঝারি আকৃতির ফেরিটি চ্যানেলে প্রবেশ করার সাথেই বনলতা ফেরির চালকের আসনে থাকা তৃতীয় মাষ্টার (হুইল সুকানি) মোকারম হোসেন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। একদিকে পিছনে তিনটি ফেরি একই সঙ্গে বিপরীতে আরো তিন-চারটি ফেরি। চ্যানেলের পূর্ব দিকে মাটি খনন করার ড্রেজিং যন্ত্র এবং পশ্চিমে রয়েছে বালুর চর।

চরের সীমানা ঘেষে পানি কম দেখে মার্কিং পয়েন্ট চিহৃ দেওয়া থাকলেও মাষ্টার উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে মার্কিং পয়েন্ট ভেদ করে বালুর চরের দিকে ঢুকে পড়েন। এসময় চিৎকার করে ফেরির ডকে (উপরে) থাকা যাত্রীদের দ্রত নিচে নামতে বলেন। এক পর্যায়ে প্রায় পনের মিনিট এভাবে চলার পর কোনো রকমে চ্যানেলটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয় ফেরিটি।

ফেরির চালক মোকারম হোসেন বলেন, এভাবে কি ফেরি চালানো যায়? চ্যানেলের প্রশস্থ্যতা এত কম যে পাশাপাশি দুটি বড় ফেরি অতিক্রম করতে গেলে একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষের উপক্রম হয়। দু’ দিন আগে দুটি ফেরির মধ্যে হালকা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য সবাই প্রাণে রক্ষা পান। বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটলে হতাহতের মতো ঘটনা ঘটতে পারতো। এছাড়া এখন শীতকালীন সময়। যে কোনো মুহুর্তে রাতে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় এই চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল করা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়বে। জরুরি ভিত্তিতে চ্যানেলের প্রশস্থ্যতা আরো বাড়ানো দরকার।

বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বিআইডব্লিউটিএ এর খনন বিভাগ খননের কাজ করছে। কিন্তু দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটের কাছে চ্যানেলের প্রশস্থ্যতা তুলনামূলক কম থাকায় মাঝেমধ্যে পাশাপাশি দুটি ফেরি যাতায়াত কালে সমস্যায় পড়তে হয়। চ্যানেলের প্রশস্থ্যতা আরো বাড়ানো দরকার। এই শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা পড়লে তখন চলাচলে আরো সমস্যায় পড়তে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) খনন বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ হোসেন বলেন, আগে ২৪০ ফুট প্রশস্থ্যতা করে চ্যানেল তৈরি করা হতো। বর্তমানে বাড়িয়ে ৩৬০ ফুট করা হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। একটি ফেরি চলাচলের জন্য ১০ ফুট পানির প্রয়োজন থাকে, এখন ১০ ফুটের উপড়ে আছে তাই কোথাও কোনও নাব্যতা সংকট নেই। তবে সমস্যা হলো- ওই চ্যানেলেই খনন যন্ত্র ও তার যন্ত্রাংশ থাকায় প্রশস্থ্যতা কমে যাওয়ায় দুটি ফেরি একত্রে চলাচল করতে কিছুটা বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী দু এক দিনের মধ্যে এ সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

পিডিএসও/অপূর্ব