তাবলীগ ইস্যুতে জুবায়ের পন্থীদের ৬ দফা দাবি

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৫১

গাজীপুর প্রতিনিধি

যথাসময়ে দুই পর্বের ইজতেমা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণসহ ৬ দফা দাবিতে গাজীপুরে জুবায়ের পন্থী আলেমগণ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার ছাত্র ও সাধারণ তাবলীগি সাথীদের উপর হামলায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেন। 

শনিবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভুরুলিয়া এলাকায় তাবলীগ জামাতের গাজীপুর মারকাজে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুফতি তাওহীদুল হক বলেন, ‘তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কোরআন ও সুন্নার ভিত্তিতে সার্বজনিন কিছু উসুলের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় ইজতেমার মুরব্বিগণ মারা যাওয়ার পর তাদের শুন্যস্থান পূরণ না করে হঠাৎ মাওলানা সা’দ নিজেকে আমির দাবি করে এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াতি ও আমলি কাজের ফয়সালা দিতে থাকেন। এ ছাড়া তিনি কোরআন ও হাদিসের নিজস্ব মতামত ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ওলামায়ে কেরামদের বিরাগভাজন হন। তিনি তাবলীগের মূল উসুল থেকে সরে গিয়ে নতুন নতুন উসুলের সমাবেশ ঘটান। বিশেষ করে আমভাবে মাছআলা বয়ান করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তার কার্যকলাপের ওপর বহুবার তাকে সতর্ক করা হয়। এতদসত্বেও তিনি নিজস্ব মতাদর্শের ওপর অটল থাকেন। এ ব্যাপারে প্রথমে নিযামউদ্দিনে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে নিযামউদ্দিন থেকে বড় বড় হযরত ওলামায়ে কেরামগণ প্রতিবাদ সরুপ বের হয়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে যান।’

তিনি বলেন, মাওলানা সা’দ এর কোরআন, সুন্না, শরিয়্ত পরিপন্থি কার্যকলাপের ওপর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় বিদ্যাপিঠ দেওবন্দ ভারত থেকে মাওলানা সা’দ কে অনুসরণ করা যাবে না বলে ফতোয়া জারি করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের বড় বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জমহুর ওলামায়ে কেরাম মাওলানা সা’দ কে অনুসরণ করা যাবে না বলে একমত পোষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাদের ছয়দফা দাবি তুলে ধরেন। ছয় দফা দাবিগুলো হচ্ছে- ওয়াসিফ-নাসিমগং ও প্রত্যক্ষভাবে হতাহত করার কাজে জড়িগতদের ন্যায় বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ওয়াসিফ-নাসিম পদালোভী ব্যক্তিদের তাবলীগের সুরা থেকে বহিস্কার করা, টঙ্গী ময়দান অনতিবিলম্বে ময়দানের সুরার সাথীদের তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে আনা, যথা সময়ে দুই পর্বে ১৮-২০ জানুয়ারী ও ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারী/১৯ ইজতেমা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কাকরাইল ও টঙ্গীর ময়দান মাওলানা সা’দ-ওয়াছিফ পন্থীদের কবল থেকে মুক্ত করা এবং যেহেতু জমহুল ওলামায়ে কেরাম ও মাশায়েকদের দৃষ্টিতে মাওলানা সা’দ কোরআন-হাদিসের পরিপন্থী ও শরিয়্ত ও আকিদা বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি লালন করছেন। তাই সা’দ পন্থী বিভ্রান্ত ফেরকার কোনও কার্যক্রম বাংলাদেশে চলতে না দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে ইজতেমার গাজীপুরের শুরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর নূর, প্রফেসর নুরুজ্জামান, ড. রেজাউল করিম ও মো. ইব্রাহিম এবং মাওলানা মুফতি নূরুল ইসলাম, মুফতি লেহাজ উদ্দিন, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা আতাউর রহমান, জুলফিকার হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ১ ডিসেম্বর ইজতেমা ময়দানে হামলায় আহত বেশ কিছু মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

পিডিএসও/অপূর্ব