সা’দ পন্থীদের বিচারের দাবিতে টঙ্গীতে সংবাদ সম্মেলন

ইজতেমা ময়দানে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে আলেমদের প্রশ্ন

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৩১ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪০

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
টঙ্গীতে হামলায় আহতরা সংবাদ সম্মেলনে তাদের জামাকাপড় দেখাচ্ছেন

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে হামলাকারী সা’দ পন্থীদের বিচারের দাবিতে জানিয়েছেন টঙ্গীর উলামা মাশায়েখ ও তাবলিগের সাথীরা। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে বর্বরোচিত হামলায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে হকপন্থী আলেমরা।

পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তে যেভাবে যুগ যুগ ধরে তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে ঠিক সেইভাবে ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ চান তারা। তাদের দাবি, তাবলিগ জামাতের স্বঘোষিত আমীর মাওলানা সা’দের পদস্খলন ঘটেছে। তিনি কুরআন-সুন্নাহর প্রকৃত আকিদায় ফিরে আসা না পর্যন্ত তাবলিগ জামাতে তার কোন কর্তৃত্ব ও অংশগ্রহণ মেনে নেয়া হবে না। 

‘আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি কাজে অংশগ্রহণকারী তাবলিগী সাথী ও নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর গত ১ ডিসেম্বর ওয়াসিফ-নাসিমপন্থী সন্ত্রাসীদের নগ্ন হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে’ বুধবার টঙ্গী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গীর উলামা মাশায়েখ ও তাবলীগের সাথীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘ইজতেমা ময়দানে নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্র ও তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলার সময় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক।

সেখানে পুলিশ দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়; বরং গেট ভেঙে হামলাকারীদের ভেতরে প্রবেশে সহায়তা করা হয়েছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা আবু বকর বলেন, ‘অথচ ইতিপূর্বে প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ ময়দানের দায়িত্বরত মুরব্বীদের কথা দিয়েছিলেন যে, ‘আপনারা আপনাদের মত করে ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করুন, আমরা বাহিরে আছি। বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, আমরা দেখব। তাদের (সা‘দ অনুসারীরা) জোড় স্থগিত করা হয়েছে, তাদের কেউ আসবে না।’

কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেলো ভিন্ন। তাহলে প্রশ্ন হলো, সারাদেশ থেকে এসব হাজার হাজার সা’দের অনুসারী ওয়াসিফ ও নাসিমের নির্দেশে উত্তরা ও টঙ্গীতে একত্রিত হলো এবং ফজরের সময়ই চতুর্দিক থেকে ময়দান ঘেরাও করল কীভাবে ? জাতি এর জবাব জানতে চায়।’’

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, (১) ইজতিমা ময়দানে হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিকুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দিন নাসিমসহ টঙ্গী ও উত্তরা থেকে নেতৃত্বদানকারী এবং হামলার সাথে জড়িত সকলকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। (২) হামলায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। (৩) টঙ্গী ইজতিমা ময়দান এতো দিন যেভাবে শুরাভিত্তিক তাবলীগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের হাতেই ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে হবে। (৪) অতিসত্তর কাকরাইলের সকল কার্যক্রম হতে ওয়াসিফ ও নাসিম গংদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। (৫) সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং (৬) টঙ্গীর আগামী বিশ্ব ইজতিমা পূর্ব ঘোষিত ১ম ধাপ ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০১৯ইং এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ইং তারিখে অনুষ্ঠানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

এসব দাবিতে আগামী ৭ ডিসেম্বর বাদ জুমা টঙ্গীর সকল মসজিদ ও এলাকা হতে তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ হলে পরবর্তীতে আরো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী জামিয়া নূরীয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাকির হোসাইন, টঙ্গী দারুল উলুম মাদ্রাসার  মুহতামিম মুফতি মাসউদুল করীম, টঙ্গী বায়তুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স এর প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা ইউনুস শাহেদী, টঙ্গীর সাতাইশ জামিয়া উসমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী, মাওলানা ইসমাইল আলমগীর, মাওলানা আব্দুর রাকিব আকন্দ, মুফতি মুহাম্মদ ইয়াকুব, মাওলানা কেরামত আলী, মাওলানা ইকবাল মাসুম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, আবু উবাইদা, তারেক মাহমুদ, আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

গত ১ ডিসেম্বর ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষে আহতরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

পিডিএসও/তাজ