কক্সবাজার-৪

টেকনাফে বদির বিকল্প শফিক মিয়া!

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২০:০১

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনটি নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদিকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। বিকল্প প্রার্থী খুঁজতেই যেন মরিয়া এলাকাবাসী। বদি সমালোচিত হলেও তার রয়েছে বিস্তর জনপ্রিয়তা। তার বিকল্প হতে পারেন ক্লিন ইমেজের নেতা আওয়ামী লীগের দু:সময়ের কান্ডারী, সৎ ও ত্যাগী আলহাজ্ব শফিক মিয়া এমনটাই মনে করছেন এই নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা।

জানা গেছে, লক্ষি আসন হিসাবে পরিচিত জাতীয় সংসদের-২৯৭, (কক্সবাজার-৪) উখিয়া-টেকনাফ আসনটিতে যে দলের প্রতিনিধি জনগনের ভোটে এমপি নির্বাচিত হন, সেই দল সরকার গঠন করে। কয়েক যুগ ধরে এমনটিই হয়ে আসছে।

ফলে এই আসনটিতে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় প্রার্থীকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দিয়ে আসছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো । তারই ধারাবাহিকতায় গত নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আব্দুর রহমান বদিকে মনোনয়ন দেন এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।

কিন্তু নানা কারণে আব্দুর রহমান বদি আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত হয়ে পড়লে চলতি একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি পরিবর্তন হতে পারে এমন সম্ভবনার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এই আসন হতে সর্বোচ্চ ২৭ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে জনপ্রিয়তায় যেই প্রার্থী আব্দুর রহমান বদির বিকল্প হতে পারেন তিনি হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দু:সময়ের কান্ডারী, সৎ ও ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব শফিক মিয়া । তবে তারা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

কেননা তার রয়েছে দীর্ঘ ২৯ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে জনপ্রতিনিধিত্ব ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে জেলা পরিষদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এছাড়া দীর্ঘ ২৯ বছর জনপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করাই শফিক মিয়ার একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ফলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবেন এমন ধারণা তাদের।

শুধু তাই বর্তমানে জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় টেকনাফ-উখিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে জেলাব্যাপী রয়েছে তার পরিচিতি ও সুনাম।

ইতোমধ্যে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার খবর ছড়িয়ে পরলে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন এবার শফিক মিয়া’র নেতৃত্বেই ইয়াবার রাজ্য থেকে মুক্তি পাবে উখিয়া-টেকনাফবাসী। দীর্ঘদিন পর একজন যোগ্য ব্যক্তির কারণেই কক্সবাজার-৪ আসনের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আশার আলো দেখছে সর্বস্তরের জনগণ। জনতার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের দু:সময়ের কান্ডারী, সৎ ও ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব শফিক মিয়া’র মতো একজন যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে দেশের উন্নয়নে মানবতার কল্যাণে কাজ করার সুযোগ দিলে উন্নয়নে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন সুত্র মতে জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়া জনগনের রায়ে একবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ৩ বারের ইউপি চেয়ারম্যান ও ২ বার ইউপি সদস্য হিসাবে মোট ২৯ বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৮৬ সাল হতে ১৯৯১ পযন্ত পাঁচ বছর টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৯২ সাল হতে ২০১৩ সাল পযন্ত ২১ বছর সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘ ২৬ বছর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন সততা, দৃঢ়তা ও সাহসের সাথে। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বর্তমানে টেকনাফ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও তিনি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত শফিক মিয়া পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।

উল্লেখ তার পিতা টেকনাফ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী তার পৈত্রিক বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল।

নতুন ভোটারদের কাছে শফিক মিয়ার নেতৃত্ব মানেই গরীববান্ধব, কর্মীবান্ধব একজন নিঃস্বার্থবান জনদরদি ত্যাগী নেতা।

পিডিএসও/রিহাব