নরসিংদীতে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৪

অনলাইন ডেস্ক
সংগৃহীত

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ও নীলক্ষায় এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৬ জন। তবে পুলিশ বলছে, নিহতের সংখ্যা ৩। শুক্রবার সকালে উপজেলার বাঁশগাড়ি গ্রামের বালুমাঠ এলাকায় ও দুপুরে নীলক্ষায় গোপীনাথপুরে সংঘর্ষের ঘটনাগুলো ঘটে। 

নিহতরা হলেন— তোফায়েল রানা (১৬), সোহরাব (৩০), স্বপন (২৭) ও অজ্ঞাত আরও একজন।

আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সিরাজুল হকের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় ইতোপূর্বে একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

এরই জের ধরে শুক্রবার সকালে বাঁশগাড়ি গ্রামের বালুমাঠ এলাকায় বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বাবুল মেম্বারের সর্মথক এবং প্রয়াত হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক জামাল, জাকির ও সুমনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী তোফায়েল রানা নিহত হয়। 

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়— পেয়েরাকান্দী গ্রামের সফর আলীর দুই ছেলে সুমন মিয়া (২৮), মামুন মিয়া (২৫) ও মির্জাচর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে সুমনসহ (২৬) আরও ৬ জন। তাদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে দুপুর দুইটার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নীলক্ষার গোপীনাথপুর বীরগাঁও কান্দাপাড়া গ্রামে ফের আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সোহরাব মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। নিহত সোহরাব মিয়া একই এলাকার ওসমান মিয়ার ছেলে এবং একই ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে স্বপন (২৭)।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নীলক্ষা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকার ও বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আবদুল হক সরকারের সমর্থকদের উপর হামলা চালায় তাজুল ইসলাম সরকারের সমর্থকরা। তবে আবদুল হক সরকার ও তাজুল ইসলাম সরকার দুজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় সদস্য। হামলার এক পর্যায়ে তাজুল ইসলামের সমর্থক সোহরাব মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর গোপীনাথপুর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে স্বপন (২৭) মারা যায়।

হাসপাতালে নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী তোফায়েল রানার বাবা আবদুল্লাহ ফকির বলেন, ‘ঝগড়া-বিবাদের জন্য এলাকা ছেড়ে পরিবার নিয়ে নরসিংদী চলে এসেছি। ছেলে পরীক্ষার খোঁজ খবর নিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এভাবে আর কত বাবার বুক খালি হলে থামবে বাঁশগাড়ির এই রক্তক্ষয়ী বিবাদ? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

নীলক্ষা ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, ‘বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হত্যার পর তার হত্যাকারীরা গা ঢাকা দেয় এবং তারা নিজ এলাকা ছেড়ে সফি মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মূলত সিরাজুল ইসলাম ও সাহেদ সরকারের সমর্থকদের ঝগড়ায় নীলক্ষা ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পড়ে।’

নরসিংদী পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাশঁগাড়ী, নীলক্ষাসহ কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’

পিডিএসও/অপূর্ব