চট্টগ্রামে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ভাংচুর

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ভাংচুর করেছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে নগরের দামপাড়ায় মিছিল সহকারে জড়ো হয়ে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ভাংচুর শুরু করেন তারা। হানিফ পরিবহনের দাবি, ভাংচুরে তাদের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ল্যাপটপ, নগদ টাকাসহ কিছু মালামাল খোয়া গেছে।
 
ভাংচুরে অংশ নেয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা বলছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ হানিফের মালিকানাধীন সংস্থা হানিফ পরিবহন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়াদের মধ্যে হানিফ অন্যতম। তার মালিকানাধীন হানিফ পরিবহনের গাড়ি চট্টগ্রামে চলতে দেয়া হবে না।
 
ঘটনায় অংশ নেয়া একজন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে টাকা আয় করে তা সরকারের বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে ব্যয় করছে হানিফ পরিবহনের মালিক। তাই তার পরিবহনকে চট্টগ্রামে আমরা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি।’
 
এদিকে দুপুর সোয়া ২টার দিকে দামপাড়ায় শুরুতে পাথর ছুঁড়ে কাউন্টারের গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ভেতরের আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে খুলশী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। তবে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজী হননি খুলশী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন। ভাংচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েম।

দুপুরে ভাংচুরের সময় হানিফ কাউন্টারে থাকা একজন যাত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে, আপনারা বেরিয়ে যান নয়তো আপনাদের উপরও হামলা হবে। এরপর আমরা বেরিয়ে গেলে ভাংচুর শুরু হয়।’

হানিফ পরিবহনের দামপাড়া কাউন্টারের বিক্রয় প্রতিনিধি মাহবুব বলেন, ‘হঠাৎ কিছু তরুণ এসে বলে, উপরের নির্দেশে কাউন্টার ভাঙতে এসেছি। এরপর শুরু করে দিলো হামলা। টাকা-পয়সা যা ছিল সব নিয়ে গেছে। চারটি ল্যাপটপ, দুইটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার, নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, টিকিট বিক্রির আরও কিছু টাকা ছিল- যা ছিল সব নিয়ে গেছে তারা।’
 
তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা জেকি নামের একজনের নাম উল্লেখ করেছিল। সে হয়তো নেতৃত্বটা দিয়েছে। তারা বলেছিল, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ থেকে এসেছে। আমরা যখন ফোনে মহানগরের একজন নেতার সাথে কথা বলিয়ে দিতে চেয়েছি, তখন ওরা বলেছে আমরা মহানগরকেও চিনি না এখন। যেহেতু আমরা দক্ষিণ জেলা থেকে এসেছি। তারা ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, হামলার একটু আগে নেপালের দুইজন নাগরিক টিকিট কিনেছেন, তারা ইউএসটিসির শিক্ষার্থী। যদি তাদের কিছু হয়ে যেতো তাহলে দূতাবাসকে ঝামেলায় পড়তে হতো।   
এদিকে দামপাড়ায় কাউন্টার ভাংচুরের আগে শাহ আমানত সেতু এলাকায় অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বন্ধ করে দেয় হানিফ পরিবহনের দুটি কাউন্টার। 

পিডিএসও/এআই