ফেরত গেলো সোলার সিস্টেম প্রকল্পের ২ কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৩৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যন্ত এলাকা আশাশুনি উপজেলা। উপকূলীয় এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। তাছাড়া প্রত্যন্ত এ দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে গেলে এখনো পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। 

এ উপজেলার মধ্যে এখনো যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি সেখানে সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে আলোকিত করার জন্য প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ঠিক সময়ে পার্টনার অর্গানাইজেশন (পিও) নির্ধারন না হওয়ায় সরকারি কোষাগারে ফেরৎ গেলো ২ কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা। বরাদ্দ ফেরৎ যাওয়ায় সুবিধাভোগী থেকে বঞ্চিত হয়েছে এলাকার মানুষ। 

জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। যার কাজ ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। তবে ঠিক সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইডকল’ কাজের জন্য পার্টনার অর্গানাইজেশন (পিও) নির্ধারণ করতে পারেনি। ফলে সৃষ্টি হয় জটিলতা। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৬ এপ্রিল পিও নির্ধারণের জন্য তাগিদপত্র দেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ১৬ দিন বাকি থাকতে ১৪ জুন স্থানীয় আরডিএস নামের বেসরকারি সংস্থা পিও নির্ধারণ করেন। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ৫-৬ দিন আগে ২৫ জুন ১৮ লক্ষ ২৫ হাজার ১৫৭ টাকার চেক প্রদান করা হয়। সে কাজটুকু সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। 

এদিকে, মন্ত্রণালয়ের তাগাদা ও কাজের সময় না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে ২ কোটি ১০ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার অব্যয়িত বা কাজ না হওয়া অর্থের হিসাব দিয়ে দেন। 

টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বলেন, সঠিক সময়ে বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে টাকাটা ফেরত গেছে। যখন টাকাটি বরাদ্দ এসেছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাছাড়া দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থা ‘ইটকল’ সঠিক সময়ে পিও নিয়োগ করতে পারেনি। এতে করে বঞ্চিত হয়েছে আশাশুনি উপজেলার মানুষ। এটা খুব দুঃখজনক। তবে ফেরত যাওয়া টাকা ছাড়াও আমার হাতে এই প্রকল্পের ৩৮ লাখ টাকা এসেছিলো। সেটি সঠিক সময়ে উপকারভোগীদের মাঝে সোলার বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
 
এ বিষয়ে জানতে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহরিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।
 
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাফফারা তাসনীন বলেন, ‘অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে বরাদ্দটি পাওয়া যায়। বরাদ্দ ব্যবহারের জন্য সময় পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এটার দায়িত্বে ঠিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (ইটকল)। তারা সঠিক সময়ে পার্টনার অরগানাইজেশন (পিও) নিয়োগ করতে পারেনি। যার কারণে বরাদ্দের টাকাটা ফের দিতে হয়েছে।’

পিডিএসও/এআই