চাঞ্চল্যকর জোহরা হত্যায় পুত্রবধূর স্বীকারোক্তি

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১৪

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর তানোরে চাঞ্চল্যকর জোহরা বেগম (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নিহত জোহরার পুত্রবধূ সোনিয়া আক্তার রুমি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। 

রোববার আদালতে রুমির জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। এ নিয়ে সোমবার নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে জোহরা হত্যার বিস্তারিত তথ্য জানান রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ।

গত ৩ অক্টোবর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া জিতপুর গ্রামে নিজের শয়নকক্ষে খুন হন জোহরা বেগম। পরে পুলিশ গিয়ে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় আহত অবস্থায় জোহরার পুত্রবধূ রুমিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

রুমির আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসপি শহিদুল্লাহ জানান, ঘটনার দিন শাশুড়ি পুত্রবধূর ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় শাশুড়ি তার পুত্রবধূ রুমিকে মারতে যায়। এ সময় রুমি তার শাশুড়িকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন। এতে জোহরা মাটিতে পড়ে যায়। এর পর সে জোহরার মুখে আঘাত করলে নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে টেনে হিচড়ে জোহরাকে ঘরে নিয়ে যায় রুমি। 

ঘটনাটি স্বামী জেনে যাওয়ার ভয়ে চাপাতি দিয়ে জবাই করে জোহরার মৃত্যু নিশ্চিত করে রুমি। জবাই করার সময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে রুমির হাতে আঙ্গল কেটে যায়। এর পরে বাহিরে গিয়ে রুমি বাচাঁও বাচাঁও বলে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তবে তার জ্ঞান হারানোর বিষয়টি ছিলো অভিনয়।

এসপি বলেন, ঘটনাস্থলের অবস্থান বিশ্লেষন করে আগে থেকেই পুত্রবধূর উপর সন্দেহ হচ্ছিলো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুমির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে রোববার তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাবাদ করা হয়। প্রায় চার ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুমি জোহরা হত্যার বর্ণনা দেয়। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

প্রায় ২০ বছর আগে জোহরার স্বামী হেলালের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে জোহরা ছেলে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলে জাহাঙ্গীরের বিয়ের পর থেকে পুত্রবধূ রুমি ও তাদের মেয়ে জুঁই জোহরার সঙ্গে থাকেন। ছেলে জাহাঙ্গীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পূবালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী পদে চাকরি করেন।

পিডিএসও/এআই