সাকার কবর থেকে ‘শহীদ’ নামফলক অপসারণ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো

যুদ্ধাপরাধের জন্য ফাঁসিতে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর কবরে তার নামের আগে ‘শহীদ’ লেখা নামফলক অপসারণ করেছে ছাত্রলীগ। গত শুক্রবার বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কবরস্থানে গিয়ে নামফলক থেকে শহীদ শব্দটি অপসারণ করেন।

গোলাম রাব্বানী তার ফেসবুক আইডিতে নামফলক অপসারণের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রমাণিত, ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরের ফলকে নামের পূর্বে লেখা ছিল ‘শহীদ’; বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজ সেই লজ্জায় প্রলেপ দিয়েছে।’

জীবিত থাকাকালীন চটকদার, ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ এবং কখনো কখনো ‘অশালীন’ মন্তব্যের কারণে বার বার সংবাদপত্রের শিরোনামে এসেছেন সালাউদ্দিন কাদের, যাকে সংক্ষেপে সাকা চৌধুরী নামে চেনে বাংলাদেশের মানুষ। তার জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার গহিরা গ্রামে। বাবা মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী এক সময় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার হয়েছিলেন।

সালাউদ্দিন কাদেরের রাজনীতির শুরুও মুসলিম লীগ থেকেই। পরে জাতীয় পার্টি ও এনডিপি হয়ে তিনি বিএনপিতে আসেন। একাত্তরের অপরাধের জন্য বিতর্কিত এই রাজনীতিবিদ ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগ থেকে রাউজানের সংসদ নির্বাচিত হন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং কার্যত এর মধ্যে দিয়েই মূল ধারার রাজনীতিতে তার পুনর্বাসন ঘটে। পরে এনডিপি ঘুরে তিনি বিএনপিতে আসেন।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বও তিনি পালন করেন। এর আগে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের শাসনামলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি থেকে অংশ নেন সাকা। রাঙ্গুনিয়াতে হেরে গেলেও ফটিকছড়ি, অর্থাৎ চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তিনি সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তার ফাঁসির রায় আসে।

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর যুদ্ধাপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে কবর দেওয়া হয়। নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার জন্য কোনো উদারতা পাওয়ার যোগ্য সাকা চৌধুরী নন বলেও মন্তব্য করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

পিডিএসও/তাজ