হাজীগঞ্জে ১২ বছর পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:১৬ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২৮

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১২বছর পর কবর থেকে ডা. মো. রফিক আহমেদ (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপরে আদালতের নির্দেশে হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে মৃতদেহটি উত্তোলণ করা হয়।

২০০৬ সালের ২৩ জুন উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কাজীরগাঁও গ্রামের দরগাহ বাড়ির মৃত আবদুল মতিনের ছেলে ডা. মো. রফিক আহমেদ ফজর নামাজের অজু করতে গিয়ে গিয়ে পানিতে পড়ে মারা যায়। মৃত্যুর ৯ বছর পর ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ডা. মো. রফিক আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার সহোদর ছোট ভাই ডা. মনির হোসেন। মামলাটির জিআর নং ১২। ধারা প্যানেল কোড ৩০২/৩৪/৫০৬(২)।

হত্যা মামলায় নিহতের সহোদর আরেক ছোট ভাই শহিদ, আপন চাচা মৃত ওয়াজেদ মিয়ার ২ ছেলে আনোয়ার হোসেন ও মো. হারুন, আপন মামা শাহরাস্তি উপজেলার আবদুল মান্নানের ছেলে আ. মমিন, সহদোর ৪ বোন নারগিস, জাহানারা, তাহমিনা, শামসুন্নাহারকে আসামি করা হয়। 

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হাজীগঞ্জ থানায় তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান পাটোয়ারী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারী ডা. রফিক আহমেদ পানিতে ডুবে মারা গেছে মর্মে আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেন। যার ফাইনাল রিপোর্ট নং ১৭৩ (২)।

মামলার বাদী ডা. মনির আহমেদ থানার তদন্তকৃত ফাইনাল রিপোর্টের উপর নারাজি এবং এ মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। যার স্মারক নং প্রশাসন/আরও ০৭-২০১৭/১৭৬১/০১(১৮)। সিআইডি চাঁদপুর পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

মঙ্গলবার মৃতদেহ উত্তোলনকালে সিআইডির পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহে উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হবে। বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতদেহটির ময়না তদন্ত আবশ্যক। মৃতদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর, সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান ও হাজীগঞ্জ থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিমউদ্দিন।

এলাকাবাসির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত ডা. রফিক আহমেদের ছেলে-মেয়ে নেই। তারা পারিবারিকভাবে সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। ঢাকায় তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। পারিবারিকভাবে ভাই-বোনদের ডা. রফিকের সম্পত্তির ভাগ দিতে হবে বিধায় ডা. মনির সহোদর ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনকে জড়িয়ে এ মামলা দায়ের করেছে।

পিডিএসও/তাজ