নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সচিব

ভাঙন রোধে সোমবার থেকে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৪ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৯

নড়িয়া (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) কবির বিন আনোয়ার বলেছেন, নড়িয়া-জাজিরা ভাঙন কবলিত এলাকায় পানি কমলেই  সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের কাজ শুরু করবে সরকার। নড়িয়ার ভাঙন কবলিত এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করতে রোববার একটি ড্রেজার এসে পৌছেছে। সোমবার থেকে শুরু হবে ড্রেজিংয়ের কাজ।

রোববার সকালে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মূলফতগঞ্জ ও বাঁশতলার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বেলা পৌনে ১ টার দিকে নড়িয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সচিব এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের জন্য শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৯ কিলোমিটার জুড়ে পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গত ২ জানুয়ারি একনেক সভায় পাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতু থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা।

২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে পদ্মার ভাঙনের তীব্রতা রোধে জুলাই মাসে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ ব্যবহার করে ১১ জুলাই থেকে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়ে অব্যাহত রয়েছে। মূলফতগঞ্জ বাজারের পদ্মার পাড়ে জিও ব্যাগ ফেলে কিছুটা হলেও ভাঙন ঠেকানো গেছে। এই খাতে নতুন করে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নড়িয়া-জাজিরা উপজেলার ৯ কিলোমিটার অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে। তারমধ্যে চার কিলোমিটার এলাকা বেশি ভাঙছে। আর এই চার কিলোমিটার ভাঙন রোধে সাময়িকভাবে কাজ শুরু করা হবে। পদ্মা নদীর প্রচন্ড ভাঙন রোধে আমরা চেষ্টা করেও পরাস্ত হয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের প্রচেষ্টা চলমান আছে। পদ্মার স্রোত নড়িয়া-জাজিরার তীরগুলো ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাঝখানের চরগুলোকে কেটে ওই দিক দিয়ে পানি প্রবাহিত করার চেষ্টা চলবে। কাঁটলে যেন ওপার ভাঙন শুরু না হয় সেভাবে কাঁটতে হবে। ভূমি খাত দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। প্লান করেই কাজ শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজে নড়িয়া এলাকায় একটি ড্রেজার এসেছে। আরেকটি ড্রেজার দুই একদিনের মধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় পৌছে যাবে। 

তিনি আরও বলেন, নড়িয়া জাজিরা এই অংশে ৯ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ করা হবে। আর ৯ দশমিক ৯০ কিলোমিটার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া একনেকে পাস হওয়া পদ্মা সেতুর ডানতীর ও বামতীর বাঁধ রক্ষায় ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ এই শুকনো মৌসুমে শুরু হবে। আইড়াল খা, মধুমতি ও পদ্মা নিয়ে আরও ২ হাজার ৯১ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। প্রতিবছর পদ্মায় ভাঙনে যারা সহায় সম্বলহীন হয়ে যাচ্ছে তাদের কথা চিন্তা করে রিভার সিস্টেম ডেভেলআপ করে স্থায়ী বাঁধ গড়ে তোলা হবে। ১০০ বছরের পরিকল্পনা এটি। নদ-নদীর জন্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করে আশিটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। যে প্রকল্পগুলো সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের।

প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে নড়িয়া উপজেলা চত্বরে ভাঙন কবলিত এলাকার ১ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি বিস্কুট, ১ লিটার সোয়াবিন তেল, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ১২টি দিয়াশলাই প্যাকেট ও ১২টি করে মোমবাতি বিতরণ করেন সচিব।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী আবু তাহের, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা ইয়াসমিন, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রার্ড়ী, নড়িয়া উপজেলা পিআইও (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন মাতব্বর প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পিডিএসও/এআই