বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার পদধ্বনি

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৫ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২৫

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

উজান থেকে আসা ঢলে বগুড়া ও কুড়িগ্রামে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। নদ-নদীর চরের নিন্মাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় দেখা দিয়েছে বন্যার পদধ্বনি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

বগুড়া : বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধুনট সারিয়াকান্দি ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে গত দুই দিনে। শুক্রবার সকালে যমুনার পানি ছিল ১৬.৭৪ সেন্টিমিটার দুপুরে তা ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.৭৫ সেন্টিমিটার হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। এতে যমুনার চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় ওই এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধির খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক যমুনা নদীর বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারিয়াকান্দির মৌজার চর, পাকুরিয়া চর ধুনটের বৈশাখী ও রাধানগর চরের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরের ধুনটের সহড়াবাড়ী, শিমুলবাড়ী, কৈয়াগাড়ী, বানিয়াজান ও ভান্ডারবাড়ীর গ্রামের (আংশিক) বন্যকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। শিমুলবাড়ী ও সহড়াবাড়ী পুরানো বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা করছেন সেখানকার মানুষ।

ধুনট উপজেলার ভূতবাড়ী থেকে কাজীপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া গ্রাম পর্যন্ত দুই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের ফলে ভূতবাড়ী, পুকুরিয়া ও ভান্ডারবাড়ী গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সারিয়াকান্দিতে যমুনার বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি উপজেলার চন্দনবাইশা, মথুরাপাড়া, ঘুঘুমারি এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, গতবার যেসব এলাকায় বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তা মেরামত করা হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সবাই প্রস্তুত রয়েছে।

ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি গত বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুঁসে উঠেছে যমুনা। পানি তীর উপচে উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভেতরের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে।

কুড়িগ্রাম : উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার ও নুন খাওয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চরের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে আমনসহ সবজি খেত। গ্রামীণ রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা।

পিডিএসও/তাজ