আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন হালুয়াঘাটের কৃষকরা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৯

মাজহারুল ইসলাম মিশু, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক সময় প্রচুর চাষ হলেও বর্তমানে কৃষকরা আখ চাষে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। স্বল্প খরচের মধ্যে আখ লাভজনক অর্থকরী ফসল হলেও নানা জটিলতার কারণে চাষিরা দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কারন হিসেবে চাষিরা বলছেন, যে জমিতে এক বছর সময় নিয়ে আখ চাষ করবো, সেখানে ধান বা সবজী চাষ করলে আরও বেশি লাভ হয়।

এ বছর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভাট্রা, ভাট্রা নয়াপাড়া, পিকা ও কৃষ্ণনগর এলাকায় ডুইরা ও মুন্সীগঞ্জ জাতের আখ ৩০ একর জমিতে স্বল্প পরিসরে আবাদ করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা কৃষকরা জানান, এক সময় পুরো এলাকা জুড়েই আখের আবাদ হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে আখের দাম কম হওয়া, বর্তমানে ভালো চারা না পাওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিকূলতার কারণে বাজারজাত করতে সমস্যা এবং বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকরা আখ চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সরকারিভাবে আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করলে এলাকায় ব্যাপক হারে আখ চাষ সম্ভব। এতে করে চাষিরাও উৎসাহী হবেন। 

ভাট্রা গ্রামের আখচাষী মোতালেব বলেন, এখন আখ চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই সবাই আগের মতো আখ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বছরে কার্তিক মাসের শুরুতেই রোপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। প্রচুর পরিমাণে সার কীটনাশক স্প্রে করে পুরো এক বছর লেগে যায় বিক্রির উপযোগী করে তুলতে। এজন্য বর্ষজীবী ফসল আখ চাষ করা বাদ দিয়ে ওই জমিতে সবজি চাষ করে বেশি লাভ হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

বর্গাচাষী আবুল কাশেম জানান, গত বছর তিনি এক একর জমিতে আখের আবাদ করেছিলেন। এ বছর মাত্র ৬০ শতাংশ জমিতে আবাদ করেছেন। ৩০ হাজার টাকা খরচ করে লাভের আশা যেন ফিকে হয়ে গেছে। কারণ সঠিক সময়ে যদি ভালো দাম না পাওয়া যায়, তবে আখ চাষ করে লাভ কী। তাই বাধ্য হয়েই আবাদের পরিমাণ কমিয়ে ফেলেছি। অথচ বছরের অর্ধেক সময় একই জমিতে আখ চাষ না করে শুধু দুইবার ধান চাষ করলে লাভ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমদ জানান, এ বছর উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। আশা করা যায় আগামী অর্থ বছরে এর পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে। আখ চাষীদের আমরা তেমন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে আখ চাষীদের প্রশিক্ষন এবং কারিগরি জ্ঞান সম্পর্কে সমৃদ্ধ করা যায় সে ব্যাপারে আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো। 

পিডিএসও/এআই