ভেঙে দেওয়া হলো মুচি জসিমের বিলাসবাড়ি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৯

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় গত শনিবার থেকে গতকাল রোববার বনবিভাগের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বন বিভাগের জমিতে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযানে বনের ওপর গড়ে তোলা মুচি জসিমের বিলাসবহুল বহুতল ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে জবরদখল হওয়া প্রায় ১০ একর জমি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা হবে বলে বন বিভাগ দাবি করেছে।

বনবিভাগ, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমি জবরদখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে জসিম। জবরদখল করে ‘নতুনপাড়া’ নামের একটি গ্রাম গড়ে তোলা হয়। অথচ বছর তিন-চার আগেও ওই এলাকা শাল-গজারির গভীর অরণ্যে ঘেরা ছিল। রাতারাতি পুরো বনাঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হয়। বনবিভাগ বারবার চেষ্টা করেও ওই জমি দখলমুক্ত ও জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়। মুচি জসিমের ভয়ে ওই এলাকায় কোনো বন রক্ষী ও গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেনি। অপকর্মের কারণে তার নামে ২টি মামলায় সাজাসহ ১৮টি বন মামলা থাকা সত্ত্বেও দিব্যি ঘুরে বেরিয়েছে জসিম।

গাজীপুর পুলিশের এসপি হিসেবে শামছুন্নাহার যোগদানের পরই পরিবর্তন হয়ে যায় দৃশ্যপট। গত শুক্রবার সকালে কাপাশিয়ার একটি বন থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। মুচি জসিম নিহত হওয়ার পরই জেলা প্রশাসন ওই বনের জমি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে রোববার ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালনা হয়। অভিযানে গাজীপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সনজীব কুমার দেবনাথ, গাজীপুর এডিশনাল এসপি রাসেল শেখ, এডিশনাল এসপি গোলাম সবুর, ঢাকা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ, এসপি সার্কেল শাহিদুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক এনামুল হক, এএসপি শোভন চন্দ্র, এএসপি শরীফ আল রাজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রিট শাহ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা, কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আজাহারুল ইসলাম, কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মহসিন, শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, কালিয়াকৈর চেক স্টেশন কর্মকর্তা মমিনুল হক, চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হক মুরাদ, মৌচাক বিট কর্মকর্তা সজিব কুমার মজুমদার, সালনা বিট কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, জাথালিয়া বিট কর্মকর্তা আহাদ আলী, রঘুনাথপুর বিট কর্মকর্তা দিলীপ মজুমদার, বোয়ালী বিট কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম, শিমলাপাড়া বিট কর্মকর্তা রুমেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এনামুল হক জানান, গত কয়েক বছরে বনদস্যু জসিম ও তার সহযোগীরা ওই এলাকার প্রায় ১০ একর মূল্যবান জমি দখল করে নেয়। আজ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাত দিন ধরে এ অভিযান চলবে।

পিডিএসও/হেলাল