কুমিল্লার লালমাইয়ে প্রধান বিচারপতি

‘ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে’

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:২২ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩২

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সরকার তো উন্নয়ন করছে। সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। 

শনিবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতাল নির্মাণ করার জন্য সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারকে ধন্যবাদ জানান। 

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, বাসেত মজুমদার একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। শত শত জুনিয়র তার মাধ্যমে আইনজীবী পেশাকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিবছর বাসেত মজুমদার দুস্থ ও অসহায় আইনজীবীদের জন্য ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। এটি একটি বিরল ঘটনা। তিনি তার এলাকায় মসজিদ, এতিমখানা, হাসপাতাল করেছেন। এমন একজন মহৎ মানুষের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন। মৃত্যু পর্যন্ত আমি এ ঘটনাকে স্মরণ করব। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপি। সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন— কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেগম বাবলী এমপি, বিচারপতি আশফাকুল কামাল, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কথা কম বলেন, কাজ বেশি করেন। তিনি ভদ্র ও অত্যন্ত বিনয়ী। সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহা কথা বেশি বলতেন, কাজ কম করতেন। এখন বিচার বিভাগে কোন দ্বন্দ্ব নেই। সাবেক বিচারপতি নিজে নিজের বিপদ টেনে এনেছেন। বিপদ টেনে এনে জল্লায় গেছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আইন বিভাগ স্থিতিশীল থাকতে হবে। এখন তা রয়েছে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেছেন, কুমিল্লার কৃতি সন্তান মাননীয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ অনুষ্ঠানে যোগদান করায় আমরা গর্বিত, আমরা আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি সুশাসন কায়েম হলে দেশ উন্নত হবে। বর্তমান সরকারের আমলে আইনের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জনগণ এর সুফল ভোগ করছে। এছাড়াও বাসেত মজুমদার যে হাসপাতালটি নির্মাণ করেছেন সেখান থেকে মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে। বাসেত মজুমদার সবসময় দুস্থ ও অসহায়দের পাশে দাড়ান। তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। 

কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন বাঙালির মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি হবে। এখন মনে হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। 

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে প্রধান বিচারপতি যোগদান করেছেন, এতেই আমি ধন্য। আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করি। স্বাস্থ্য সেবাকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমার ছেলে ও মেয়ে উভয়ই ডাক্তার। আমি মনে করি মানুষ বেঁচে থাকবে কাজের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

সভায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সহধর্মিনী সামিনা খাঁন, সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জাকির হোসেন, লালমাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বিএসসি, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউনুছ ভূঁইয়া, পিপি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট তানজিনা আক্তার, লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান শাহীন জিয়াসহ বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতালের ফলক উন্মোচন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ সময় সকল অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান।

পিডিএসও/এআই