বিষখালীর ভাঙনের মুখে দেউরী সাইক্লোন শেল্টার

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:০৬

রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে বিষখালী নদীর ভাঙনের মুখে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার বিলীন হবার পথে। ইতিমধ্যে বেজমেন্টের নিচের মাটি সরে গেছে। যেকোনো মূহুর্তে দেবে যেতে পারে ভবনটি। আতঙ্কে স্কুলে শিক্ষার্থী আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা স্কুলে এলেও সবসময় ভয়ে-ভয়ে থাকেন। 

মাত্র ৪ বছর আগে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এ সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করা হয়। এলজিইডি এই পরিস্থিতির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করেছে।

ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিকভারি এন্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্টের আওতায় বিশ্ব ব্যংকের অর্থায়নে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করা হয়। ২ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রক্কলিত ব্যয় ধরা হলেও নির্মাণ খরচ হয় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। 

ঐ সময় ভাঙন কবলিত বিষখালী নদীর মাত্র ১০০ গজের মধ্যে এ ধরনের ভবন নির্মাণে স্থানীয়রা আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। তখন বলা হয়েছিল, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভবনটি ভাঙনের চূড়ান্ত ঝুঁকিতে। 

ইতিমধ্যে সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে, সরে গেছে ভবনের বেজমেন্টের নিচের মাটি। বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় বাজারটিও। ভবনটি এখন শুধুমাত্র পাইলিং এর ওপর দাড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

এই ব্যাপারে ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভবনটি নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও সেটি শেষ না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান জানান, নদী তীরবর্তি সরকারী স্থাপনা, বিশেষ করে সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল-কলেজ এসমস্ত কিছু অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় নদী ভাঙনের সম্মুখীন হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করে তালিকা তৈরি করছি। যদি জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। সদর উপজেলার দেউরী সাইক্লোন শেল্টারের কার্যক্রমটা জরুরী ভিত্তিতে দরকার, তা আমরা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। অতিশীঘ্রই কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। অন্যান্য স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি বলেও জানান এ কর্মকর্তা। 

পিডিএসও/এআই