ফসলি জমিতে বিদ্যুৎ প্লান্ট বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১১

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

তিন ফসলিসহ বসতভিটার জমিতে আশুগঞ্জ ও সেনাকল্যাণ সংস্থার তাপ বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে শত শত কৃষক মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেছে।

বুধবার বেলা ১২টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কলাপাড়া উপজেলার পাঁচজুনিয়া, ধানখালী, ছইলাবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া, চম্পাপুর, ও দেবপুর গ্রামের শত শত কৃষক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। 

মানববন্ধন শেষে কৃষকদের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নূরুল হাফিজ এর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন আতাউর রহমান, দলিল উদ্দিন, মিলন মৃধা প্রমুখ। 

কৃষকরা জানান, পাঁচজুনিয়া, ধানখালী, ছইলাবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া, চম্পাপুর, ও দেবপুর গ্রামে কমপক্ষে এক হাজার একর ত্রি-ফসলি জমি রয়েছে। সেই সাথে আচে অন্তত দেড় হাজার কৃষক পরিবার। কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৯টি। রয়েছে একাধিক সাইক্লোন শেল্টার। রয়েছে সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিক, পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি গুদাম ঘর, পুরনো বাজার। 

এছাড়াও রয়েছে অন্তত ১০টি এনজিও, দেড় শতাধিক পুকুরসহ অসংখ্য মাছের ঘের। রয়েছে চার’শ বছরের পুরনো দিঘী। ধানখালীর প্রতি ইঞ্চি জমিতে ১২মাস কোন না কোন ফসল উৎপন্ন হয়। শুধুমাত্র মৌসুমী সুস্বাদু তরমুজ চাষে শত কোটি টাকা আয় করে কৃষকরা। সারা বছর পরিপূর্ণ থাকে কৃষি শস্যে। 

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী কৃষকরা আরও জানান, ইতিমধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান কাজ প্রায় সম্পন্নের পথে। এ ছাড়া আরপিসিএল ১৩২ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ১৩২০ মেগাওয়াট, সিমেন্স ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্ট করতে প্রায় তিন হাজার একর কৃষি জমিসহ বসতভিটা অধিগ্রহন করেছে। 

এখন সেনা কল্যাণ সংস্থা আরও এক হাজার একর জমি অধিগ্রহন করলে ফসলি জমি আর অবশিষ্ট থাকবে না। ধানখালী ইউনিয়নের মানুষের দাবী, তিন ফসলি কৃষি জমিসহ বসতভিটা এলাকায় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে, তাও মানছে না এসব কোম্পানীর কর্মকর্তারা। 

তাদের অভিযোগ, জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০০১ এবং কৃষিজমি সুরক্ষা আইন ২০১৫ উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 

কৃষক নেতৃবৃন্দ বলেন, শিল্পনীতি অনুসারে জনবসতি এলাকায় কোন শিল্প, কলকারখানা, ইটের ভাটা নির্মান করা যাবে না। কিন্তু সব উপেক্ষা করছে এ সব কোম্পানীগুলো। উক্ত ত্রি-ফসলী জমিতে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করা হলে পেশাচ্যুত হবেন হাজার কৃষক পরিবার। 
মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী কৃষকরা ত্রি-ফসলী জমি থেকে অন্যত্র বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন। মানববন্ধনে দেখা গেছে, ‘ত্রি-ফসলী জমি রক্ষায় জীবন দিবো, জমি দেব না,’ ‘রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে, আমরা আশ্রয় নিব কোথায়’ প্রভৃতি লেখা পোস্টার নিয়ে একাধিক কৃষক অংশগ্রহন করেন।  

পিডিএসও/ এআই