পায়ে লিখে বিসিএসে অংশ নেয়ার স্বপ্ন শারমিনের

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০৪ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:১১

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধি

মাধ্যমিক পাশ করেই নিজ এলাকায় টিউশনি করছেন। সংসারে অভাব অনটনের পরেও অদম্য সাহস, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস, মেধা, মননের ওপর ভর করে জীবন সংগ্রামে থেমে থাকেননি শারীরিক প্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার।

দরিদ্র দিনমজুর ও কৃষিজীবি পিতা ফিরোজ আলম ও মা বকুল আক্তারের সংসারে ৫ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ শারমিন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধি। দু’হাত থেকেও নেই। পুরোপুরি অকেজো। তাই দু’পায়ের ওপর ভর করেই তার সব ধরনের পথচলা। জানান, স্কুল-কলেজে চলাফেরার ক্ষেত্রে সহযোগি দু’চাচাতো বোনের কিছুটা সহযোগিতা পান।

একমাত্র ভাই রাশেদ খান রাজধানীর সায়েদাবাদে গাড়ি মেরামতের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। বোনদের মধ্যে বড় দু’বোনের বিয়ে হয়েছে। রাশেদ জানান, পরিবারের একমাত্র প্রতিবন্ধী বোনের চাকরির ব্যবস্থা হলে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারবেন। এ নিয়েই তাদের যত দুশ্চিন্তা আর ভাবনা।

শারমিন নোয়াখালী সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে লেখাপড়ার খরচ হিসেবে কিছু আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। এজন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যত বির্নিমাণে একটি সুদৃঢ় নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করছেন।

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষ্ণরামপুর গ্রামের লাল মিয়া কেরানী বাড়ির প্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার নোয়াখালী সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে চলতি বছরের স্নাতকের ফলাফল প্রার্থী। অনার্স চুড়ান্ত পর্বের ফলাফল না পাওয়ার এ সময়েও বেকার বসে থাকেননি তিনি। শিখছেন কম্পিউটার।

বলেছেন, পরিবারের সবার অকৃত্রিম ভালবাসা, সহযোগিতা ও সাহসের কারণে তার মনোবল তাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। 
শারমিন দু’পায়ের মধ্যে ডান পায়ে লিখছেন। পায়ের লেখা অত্যন্ত সারিবদ্ধ ও সুন্দর। তার সহপাঠি প্রিয়া স্মরনী জানান, সে হাত দিয়ে লিখতে পারলে টাইপিং বলা যেতো।

শারমিন জানান, রাজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিলেও পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে মানবিকে ভর্তি হয়েছেন। লেখার গতি আরো দ্রুত থাকলে বিজ্ঞান বিভাগের ধারাবাহিকতা সহজে রক্ষা করা যেতো বলে মনে করছেন তিনি। 

একইসঙ্গে বলেন, স্মাতকোত্তর ডিগ্রী শেষে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেবেন। দেশবাসীকে তিনি জানাতে চান, শাররিক সমস্যা নিয়েও তিনি মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সংগ্রাম করছেন। তিনি বোঝাতে চান, শারীরিক সিমাবদ্ধতা কোন সমস্যা নয়, যদি তা জয় করার ইচ্ছা থাকে।

পিডিএসও/ এআই