কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে সিএমপি কমিশনার

‘মাদক কারবারিদের জীবনহানিই একমাত্র সমাধান’

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১১ | আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মাদকের ভয়াবহতা ঠেকাতে মাদক কারবারিদের জীবনহানিকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে কোতোয়ালী থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সিএমপি পুলিশ কমিশনার বলেন, ধর্মীয় উপদেশেও কাজ হবেনা। বড়ভাই বলে মাথায় হাত বুলিয়েও কাজ হবেনা। সবচেয়ে বড় কাজ হবে যেটা হচ্ছে... জীবনহানি। বাস্তব অর্থে জীবনহানি। একমাত্র সে যদি মনে করে এই ব্যবসা করলে তার জীবনহানির আশঙ্কা আছে, তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, তাহলেই সে এই ব্যবসা ছেড়ে দেবে। মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে অস্ত্র আছে। সেই অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের পুলিশ, র‌্যাব যাচ্ছে। তারা অস্ত্রের ব্যবহার করছে। এতে অনেকের জীবনহানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, জীবনহানি হতে হবে। শান্তির জন্য অশান্তির জীবনহানি হতে পারে। তারা (মাদকব্যবসায়ী) অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের মোকাবেলা করতে চায়, আমাদের হাতেও অস্ত্রও আছে। সেই অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার আমাদের আছে। সুতরাং মাদকনিয়ন্ত্রণে জীবনহানি হতে পারে।

সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশকে ইয়াবার মাধ্যমে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকবিরোধী সংগ্রাম চলছে। মূল বিষয়হচ্ছে, মাদকব্যবসায়ীদের কোন ধর্মীয় উপদেশ দিয়ে কাজ হবেনা। 
বড়ভাই হয়ে তাদের মাথায় হাত রেখে বোঝালেও কাজ হবেনা। কারণ ৫০ টাকার ইয়াবা এনে সে যদি ৫০০ টাকায় বিক্রি করে, তার যদি ৪৫০ টাকা লাভ হয়, সে এই ব্যবসা ছাড়বে কেন?

তিনি আরও বলেন, সব দোষ যেন পুলিশের। অথচ যাদের ব্যর্থতার কারণে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাদের নাম কেউ মুখে আনেনা। দুঃখের বিষয় তাদের কথা মিডিয়াতেও আসেনা। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকেও ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। 
তারা কঠোর হলে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হত। আমি আশা করব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড শক্তিশালী হবে এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ইয়াবা ব্যবসায় পুলিশের জড়িয়ে পড়া কোনো ভাবেই সহ্য করা হবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনজন এসআইকে হাতকড়া পড়িয়ে জেলে পাঠিয়েছি। আমার অবস্থান স্পষ্ট, যে বা যারা ইয়াবার সঙ্গে যুক্ত তারা পুলিশের কেউ না। পুলিশ ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু ইয়াবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেনা। ইয়াবা ব্যবসা করতে হলে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে সরকার সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। গত চার মাসে আড়াইশর বেশি মানুষ কথিত বন্দুকযুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে নিহত হয়েছে, যারা মাদকের সাথে যুক্ত ছিল বলে জানানো হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে ইতিমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছে।

কোতোয়ালী থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি এসএম শাহাবউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক, প্যানেল মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনি ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রমুখ।

পিডিএসও/ এআই