টুঙ্গিপাড়ায় দেশীয় মাছের আকাল

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৬

সজল সরকার, টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
ama ami

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দেশীয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। ইতোমধ্যে এ অঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে পুঁটি, শোল, টাকি, গজার, কৈ, টেংরা, মাগুর, শিং, খৈলশা, ভেটকি, পাবদা, আইড়, মলা, ঢেলা, চিংড়ি, বাইন, খয়রাসহ নানান প্রজাতির ছোটমাছ। 

বিলুপ্তপ্রায় এই মাছগুলো ছাড়াও অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বেলে, শৈল, টাকি, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। তাই এক সময়ের চিরচেনা মাছগুলো এখন হয়ে পড়েছে খুবই অচেনা, অপরিচিত।

এছাড়া এলাকার হাট-বাজারগুলোতে দেশীয় মাছের আমদানি একেবারেই কমে গেছে। মাঝে মাঝে বাজারে কিছু আমদানি হলেও তার দাম চড়া হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকে। 

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, বৈশাখ মাস থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত খাল-বিল, নদীনালা ও জলাশয়ে দেশি প্রজাতির মাছ ডিম পাড়ে। এ সময় এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা নির্বিচারে ছোট মাছ শিকার করায় মাছ বংশবিস্তার করতে পারছে না। ফলে দিন দিন বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ।

সচেতন মহল মনে করেন, উজানে বাঁধ নির্মাণ না করা, ডোবাগুলোয় মাটি ভরাট না করা, কৃষিকাজে অপরিমিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার না করা, ডিমওয়ালা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা, জলাশয় দূষণ না করা, কারেন্ট জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং মৎস্যবিভাগ সরজমিনে তদারকির ব্যবস্থা করলে মাছের উৎপাদন পুরোপুরি না হলেও অনেকটা স্বাভাবিক করা সম্ভব।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ হালদার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত চার মাস দেশীয় প্রজাতির ছোটমাছ না ধরে প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করা, ডিমওয়ালা মাছ প্রকৃতিতে অবমুক্তকরণ, ছোটমাছের উপকারিতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ, জেলে পরিবারগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার পরিবর্তে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সমন্বিত বালাইনাশক প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও কীটনাশকের মাত্রারিক্ত ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা করা সম্ভব।

পিডিএসও/ এআই