পাহাড়ে শোকের মাতম, জনমনে আতঙ্ক

৫ সদস্যের কমিটি গঠন

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৮

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের হামলায় ৭ জন নিহতের ঘটনায় পাহাড়ে চলছে শোকের মাতম। আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। গভীর অরণ্যের সীমানা ছাড়িয়ে এখন প্রকাশ্যে ঘটছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র হামলার ঘটনা। তবে এসব আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সন্ত্রাসীদের গুলিতে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে, খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ৭ জনের মধ্যে ৩ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ। লাশ এলাকায় পৌঁছালে আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে পুরো খাগড়াছড়ি। 

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, গত শনিবার স্বনির্ভর এলাকায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসন হত্যাতদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ জনমনে স্বস্তি ও আস্থা ফেরাতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। 

আর ৩ জনের লাশ হস্তান্তর করা হলেও ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপি ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা তপন চাকমা, এলটন চাকমা ও পলাশ চাকমার লাশ কেউ গ্রহণ করেনি। 
খাগড়াছড়ি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সপ্তাহব্যাপী চলবে এই অভিযান। গিরিফুল এলাকা থেকে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীসহ ৭ জন নিহতের প্রতিবাদে আজ সোমবার খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) সমর্থিত তিন সংগঠন।  

গত শনিবার খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীসহ ৭ জনের নিহতের পর এখনো আতঙ্ক কাটেনি গতকাল রোরবারও। ব্যস্ততম স্বনির্ভর বাজারের দোকানপাট খোলেনি। বাজারজুড়ে আতঙ্কের ছাপ। সাধারণ মানুষের চলাফেরায়ও রয়েছে সাবধানতা। 

প্রসঙ্গত, গত শনিবার খাগড়াছড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) সমর্থিত তিন নেতাসহ ৬ জন নিহত হন। পরে পেরাছড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে হামলায় আরো একজন নিহত হন। এই ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফকে (গণতান্ত্রিক) দায়ী করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)।  

তবে, বরাবরের মতো এই ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন জেএসএস (এমএন লারমা) এর কেন্দ্রীয় সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা।

পিডিএসও/তাজ